• বীরভূমের ২ বিএলওকে সাসপেন্ড করল কমিশন, পার্টি অফিসে ভোটার স্লিপ, সাইকেলে তৃণমূলের পতাকা
    বর্তমান | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বীরভূম জেলার দু’জন বিএলওকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। দুবরাজপুরের এক বিএলওর বিরুদ্ধে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে বসে ভোটার স্লিপ বিলি করার অভিযোগ উঠেছে। ময়ূরেশ্বরের বিএলওর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সাইকেলে তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে ভোটার স্লিপ বিলি করেছেন তিনি। দুই বিএলওকে ইতিমধ্যেই নির্বাচনের সমস্ত কাজ থেকে সরানো হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের চাকরি থেকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন।

    জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সূত্রের খবর, দুবরাজপুর বিধানসভার অন্তর্গত খয়রাশোল ব্লকের কেন্দ্রগড়িয়া পঞ্চায়েতের বেলেডাঙাল ১১২ নম্বর পার্টের বিএলও মঞ্জুরি চট্টোপাধ্যায়। তিনি পেশায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। গত বৃহস্পতিবার তাঁর একটি ভিডিও ক্লিপ সামনে আসে। যেখানে দেখা যায় তিনি তৃণমূলের পার্টি অফিসে বসে ভোটার ইনফর্মেশন স্লিপ বিলি করছেন। এই ঘটনার ভিডিও ক্লিপ নিয়ে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে অভিযোগ দায়ের করে বিজেপি। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তড়িঘড়ি মঞ্জুরিদেবীকে নির্বাচনী কাজ ও চাকরি-উভয় থেকেই সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

    যদিও ওই বিএলও বলেন, ওইদিন সকাল থেকেই স্লিপ বিলি করতে করতে প্রচন্ড রোদ ও গরমে আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। প্রায় ১৫-২০ মিনিট আমার কোনও হুঁশ ছিল না। তখন স্থানীয় কয়েকজন আমাকে কাছের একটি বাড়িটিতে নিয়ে গিয়ে চোখে মুখে জল দেয়। খানিকক্ষণ পর আমি কিছুটা সুস্থ বোধ করতে থাকি। সেইসময় আমাকে ঘিরে ছিল কয়েকজন। তাঁরাই আমাকে অনুরোধ করে, তাঁদের ভোটার স্লিপগুলি সেখানেই দিয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু ওটা যে পার্টি অফিস আমি তখন তা বুঝতে পারিনি। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নিয়মভঙ্গের কোনো অজুহাতই ধোপে টিকবে না। সূত্রের খবর, পরের দিনই ওই বিএলওকে ফোন করে বিডিও অফিসে ডেকে সাসপেন্ড লেটার ধরানো হয়। যদিও চাকরি থেকে সাসপেন্ড করার ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন ওই বিএলও। 

    একইভাবে ময়ূরেশ্বর-১ ব্লকের ঝিকড্ডা পঞ্চায়েতের গাজিপুরের ৫৬নম্বর পার্টের বিএলও জয়নাল আবেদিনকেও শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি একটি স্কুলের পার্শ্বশিক্ষক হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সাইকেলে তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে ভোটার স্লিপ বিলি করেছেন তিনি। সেই ছবি কমিশনের কাছে জমা পড়ে। তারপরই ওই বিএলওর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। 

    জেলা নির্বাচনি দপ্তরের এক পদস্থ কর্তা সাফ বলেন, বিএলওদের নিরপেক্ষ থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ব্যবহার করা বা সাইকেলে পতাকা লাগিয়ে স্লিপ বিলি করা নির্বাচনি বিধিভঙ্গের শামিল। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই আমরা কড়া পদক্ষেপ করেছি।
  • Link to this news (বর্তমান)