• বিজেপি ভয়ংকর, বাংলায় ওদের আটকান, ভোট প্রচারে এসে সতর্কবার্তা হেমন্ত সোরেনের
    বর্তমান | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • সজল মণ্ডল, বাপ্পা রায়: কাশীপুর ও মানবাজার (পুরুলিয়া): আদিবাসী অধ্যুষিত রাজ্য থেকে তাঁকে উৎখাত করার জন্য একের পর এক চক্রান্ত হয়েছে। হেনস্তার শিকার হয়েছেন। খাটতে হয়েছে জেলও। তবুও দমিয়ে রাখা যায়নি দলিত-আদিবাসীদের অবিসংবাদিত নেতা হেমন্ত সোরেনকে। ফের ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হয়েছেন। বিজেপি শাসিত রাজ্যে দলিত-আদিবাসীদের কীভাবে পদদলিত করা হচ্ছে, কীভাবে শোষিত হচ্ছে, সেই অভিজ্ঞতা বোধহয় সবচেয়ে বেশি রয়েছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) সুপ্রিমোর। প্রতিবেশী রাজ্য বাংলার ভোটে আদিবাসী অধ্যুষিত পুরুলিয়া জেলায় নির্বাচনি প্রচারে এসে শনিবার নিজের সেই অভিজ্ঞতাই জনতার সঙ্গে ভাগ করেছেন হেমন্ত। শুনিয়েছেন সতর্কবার্তা—‘বিজেপি ভয়ংকর! বাংলায় ওদের আটকান।’ কাশীপুর, মানবাজার ও বান্দোয়ানের উপচে পড়া সভাস্থল তৃণমূল আর জেএমএম’এর পতাকা উড়িয়ে  শুনিয়েছে—জয় জোহার! সমুদ্র গর্জনে ধামসা-মাদল বাজিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে যেন ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা পুরুলিয়ার জঙ্গলমহলের।

    বাংলার বিধানসভা ভোটে তৃণমূলকে সমর্থনের ঘোষণা আগেই করেছিলেন হেমন্ত সোরেন। জানিয়েছিলেন, দলিত-আদিবাসীদের উপর বিজেপির নির্যাতন ও শোষণের কাহিনী বর্ণনা করতে নির্বাচনি প্রচারে আসবেন তিনি। কথা রাখলেন হেমন্ত। এদিন তৃণমূল প্রার্থী সৌমেন বেলথরিয়া, সন্ধ্যারানি টুডু ও রাজীব লোচন সোরেনের সমর্থনে তিনটি সভা করেছেন তিনি। হিন্দি আর সাঁওতালি ভাষায় বক্তৃতা দিয়েছেন। তবে নিজের ফেসবুক পেজে প্রচার কর্মসূচি নিয়ে বাংলাতেও পোস্ট করেছেন জেএমএম প্রধান। এই পর্বে জঙ্গলমহলের আরও কয়েকটি প্রান্তে তৃণমূলের হয়ে প্রচার করবেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী। 

    হেমন্ত বলেছেন, ‘একসময়ে আমরা সবাই অবিভক্ত বাংলার মধ্যেই ছিলাম। সময় পরিবর্তনের সঙ্গে আলাদা রাজ্য হয়েছে। সেই বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকার বানানোর জন্য বিজেপি হিন্দু-মুসলমানে ঝামেলা করিয়েছে, আদিবাসীদের সঙ্গে আদিবাসীদের লড়াই লাগিয়েছে, এখন আবার দেশ ভাঙার কাজে লেগে পড়েছে।’ তাঁর কটাক্ষ, ‘ওরা নারী সুরক্ষার কথা বলে, অথচ মহিলাদের প্রতি অত্যাচারে এগিয়ে রয়েছে ওদের সাংসদ-বিধায়করাই।’ জেএমএম প্রধান বলেন, ‘মমতাদিদির নেতৃত্বে বাংলা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছে। আমরা তাদের সঙ্গে রয়েছি। তৃণমূল সরকার সাধারণ, দলিত-আদিবাসীদের জন্য অনেক কাজ করেছে।’ হেমন্তর সতর্কবার্তা—‘এখন নির্বাচন। বিজেপি ভালো ভালো কথা বলবে। কিন্তু ওদের মুখে মধু, বগলে ছুরি। ওরা ভয়ংকর, ওদের আটকান।’ আদিবাসী সমাজের জন্য তাঁর পরামর্শ—‘মমতাদিদি রাজ্যের আদিবাসী মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকেন। তাই আদিবাসীরা তৃণমূলকে ভোট দেবে। বিজেপি শাসিত রাজ্যে দলিত, আদিবাসী এবং পিছিয়ে পড়া জনজাতির উপর নির্মম অত্যাচারের কথা মনে রাখবেন।’ জেএমএম প্রধানের দীপ্ত বার্তা—‘আমরা, আদিবাসীরা কাউকে ভয় পাই না। প্রভু বিরসা মুণ্ডা, সিধো-কানহু, ফুল-ঝানোর বংশধর আমরা। যুদ্ধ করার লোক আমরা। তাই বিজেপির বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছি।’
  • Link to this news (বর্তমান)