দিদিকেই ভোট দেব বলায় মহিলাকে মার-শ্লীলতাহানি, পাণ্ডবেশ্বরে গ্রেপ্তার বিজেপি নেতা
বর্তমান | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় দুয়ারে দুয়ারে ভোট চাইতে বেরচ্ছেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। শুক্রবারও তার অন্যথা হয়নি পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর কেন্দ্রে। কিন্তু সকাল সকাল ডিভিসি কলোনির বাঙালপাড়ায় এক বাড়িতে গিয়ে ভোট চাইতেই উত্তর আসে, ‘বিজেপিকে নয়, আমরা দিদিকেই ভোট দেব!’ তাতেই বাঁধল বিপত্তি! ‘দিদিকেই ভোট দেব’ শুনে বেজায় চটে যান প্রচারে যাওয়া বিজেপি নেতারা। অভিযোগ, এরপরই ওই মহিলা ও তাঁর নাবালিকা মেয়েকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয়। রেহাই পাননি ওই বাড়ির কর্তাও। প্রচারে আসা বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে থানার দ্বারস্থ হন আক্রান্তরা। শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় বিজেপি নেতা প্রহ্লাদ সাউকে। যদিও পালটা মাধররের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গৃহকর্তা তথা ওই অঞ্চলের তৃণমূলের বুথ সভাপতিকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার সকালে কর্মীদের নিয়ে ভোট প্রচারে বের হন বিজেপি নেতা প্রহ্লাদ। এলাকায় প্রচার করতে করতে তাঁরা তৃণমূলের ওই বুথ সভাপতির বাড়িতে যান। গৃহকর্তা তখন বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন প্রহ্লাদরা। কথোপকথন চলাকালীন ওই মহিলা বলেন, ‘আমরা দিদিকেই ভোট দেব!’ এমনকি তিনি বিজেপি নেতাদের প্রশ্ন করেন, ‘এতদিন কোথায় ছিলেন? এখন ভোট চাইতে এসেছেন?’ এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এই প্রশ্নের মুখে পড়েই মেজাজ হারান প্রহ্লাদ। অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। ইতিমধ্যে বাড়িতে আসেন তৃণমূল নেতা। তাঁকেও মারধর করা হয়। স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে মার খান স্ত্রী ও মেয়ে। এমনকি, তাঁদের শ্লীলতাহানিও করা হয়েছে বলে পাণ্ডবেশ্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ওই পরিবার। যদিও এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ সাজানো ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতা প্রহ্লাদ। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিয়ো বার্তায় তিনি দাবি করেন, ‘তৃণমূলের বুথ সভাপতি ও তাঁর পরিবার লাঠি-বঁটি নিয়ে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে সেখান থেকে পালিয়ে এসেছি।’ তাঁর অভিযোগ, পাণ্ডবেশ্বর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নেয়নি।
যদিও শেষপর্যন্ত এই ঘটনায় পুলিশ দু’পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে বিজেপি নেতা প্রহ্লাদ ও ওই তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার তাঁদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘বিজেপি এখন সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে ভোট নিতে চাইছে। ব্যালট বক্সে মানুষ এর জবাব দেবে।’ বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তেওয়ারি অবশ্য মারধরের কথা ঘুরিয়ে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কার্যকর্তাদের উপর হামলা হলে আত্মরক্ষার্থে তারা পালটা আক্রমণ করে।’