অভিষেক পাল, অভিজিৎ চৌধুরী: মুর্শিদাবাদ, জামালপুর, হুগলি: ‘বাঙালিরাই রুখে দেবে। বাংলা রুখতে জানে। ৪ মে জবাব দেবে বাংলা।’ বাঙালি অস্মিতায় শান দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তিনি মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর ও হুগলির পাণ্ডুয়া থেকে একযোগে বিজেপি ও কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়ান। তাঁর হুংকার, ‘মানুষের ক্ষমতার সামনে কোনো ক্ষমতা টেকে না। বাঙালিকে বোকা বানাতে চাইছে। মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কারও ক্ষমতা নেই। বাঙালিই বিজেপিকে লেজেগোবরে করবে। ওরা বাঙালিদের বাংলাদেশি বলেছিল। বাঙালি কী খাবে, কী পরবে, সেটা বাঙালিই ঠিক করবে। অন্য কেউ নয়। ৪ মে-র পর আবার মা-মাটি-মানুষের সরকার। বলে দিয়েছে জনতা, নবান্ন দখল করবে মমতা।’
মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকারের পাশাপাশি বিজেপিকে কটাক্ষ করে অভিষেকের দাবি, ‘গুজরাতের বাবারা বাঙালির জীবনের সিদ্ধান্ত নেবে না। আমরা নিতে দেব না। স্টেজে কী লেখা আছে, ওরা পড়ে বলতে পারবে না। অথচ বাঙালি সাজার চেষ্টা করছে। এরা আজ মাল বেচবে, কাল দেখবেন দোকানটাই নেই। আমাদের পালটাতে গিয়ে এখন নিজেরাই পালটে গিয়েছে। ভোটের আগে মাছ হাতে বাড়ি বাড়ি ঘুরছে। এটাই বাঙালির ক্ষমতা। বিজেপি বাংলার উন্নয়ন আটকাতে চাইছে। ৪ মে ভোট বাক্স খুললে বিজেপি ভোকাট্টা হবে।’
এসআইআরে চক্রান্ত করে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ‘দেশদ্রোহী’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। সেই সূত্রে তাঁর দৃপ্ত ঘোষণা, ‘একজনকেও বাংলা থেকে যেতে দেব না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের মধ্যে একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী, যিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার ফেরাতে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। আমরা এই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলাম।’ নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করে অভিষেক আরও বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার ও তাঁর নির্বাচন কমিশনের সময় তো শেষ হয়ে এল। ১৬ দিন পর তো ভোকাট্টা। ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে বাংলা দখল করা যাবে না।’
এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে ভুক্তভোগীদের অযথা চিন্তা করতে বারণ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, ৪ মে আমাদের সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যে তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় তুলে দেওয়া হবে। ৪ জুনের মধ্যে প্রত্যেকের নাম উঠে যাবে। এটাই আমাদের অঙ্গীকার। আমাদের জিতিয়ে দিন, মাথা নত করে ওরা কাজ করবে।’
এদিন প্রত্যয়ের সঙ্গে অভিষেক বলেন, ‘আত্মনির্ভর ভারত হয়নি। আমরা স্বনির্ভর বাংলা করে দেখিয়েছি। বাংলার সঙ্গে, বাঙালির সঙ্গে বেইমানি করার জবাব ২৩ তারিখই দিতে হবে।’ তাঁর এই বক্তব্যে করতালি ও স্লোগানে মুখরিত হয় সভাস্থল। মানুষের উচ্ছ্বাস সাক্ষী রেখে অভিষেক বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন বিল এনেছিল বিজেপি। এটা মহিলা সংরক্ষণ বিল নয়। আগেই মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল দেখিয়ে দিয়েছে, বিজেপি যা খুশি করতে পারবে না। গায়ের জোরে সংবিধান পালটাতে দেব না আমরা।’