• ওরা শওকতকে খুন করতে চায়, ভাঙড়ের সভা থেকে অভিযোগ মমতার
    বর্তমান | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভাঙড় পুনরুদ্ধারে তৃণমূলের বাজি শওকত মোল্লা! আর তাঁকে নিয়েই শনিবার আশা-আশঙ্কার কথা শোনালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। ভাঙড়ের ভোজেরহাট খেলার মাঠের জনসভায় তিনি বলেন, ‘শওকতকে ওরা খুন করতে চায়।’ যদিও এই অভিযোগ কাদের বিরুদ্ধে, স্পষ্ট করেননি মমতা। তাঁর বক্তৃতার আগাগোড়াই আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বিজেপি। এমনকি, শওকতের নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও গুরুতর অভিযোগ করেন মমতা। এই প্রেক্ষিতে নেত্রীর হুংকার, ‘বিজেপির নেতারা কেন্দ্রীয় বাহিনী ভরতি করে ২০টি গাড়ি নিয়ে ঘুরছেন। বিজেপির ভ্যানিশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে শওকতের নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হবে শুনছি। সেরকম হলে আমি আমার সিকিউরিটি তুলে শওকতকে দেব। দেখি, আপনারা কী করতে পারেন!’ মাসখানেক আগে দলীয় বৈঠক সেরে বাড়ি ফেরার পথে শওকত মোল্লার গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা মারার অভিযোগ উঠেছিল দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের নিশানা করেছেন।

    এদিনের সভায় বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণের পাশাপাশি তৃণমূল সুপ্রিমো প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থীকে কার্যত আগলে রাখার চেষ্টা করেন। একাধিকবার উঠে আসে তাঁর সঙ্গে শওকতের নিবিড় সম্পর্কের কথাও। মমতা বলেন, ‘আমি ডান হাত হলে শওকত বাঁ হাত। ওকে আমি খুব ভালোবাসি।  নিরাপত্তা তুলে নিয়ে যদি ওর উপর কোনো হামলা হয়, তাহলে আমি ছেড়ে কথা বলব না।’ আগামী দিনে ভাঙড়ের জন্য তাঁর অনেক পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ‘শওকত যেখানে যা চাইবে, তাই করব’ বলে এদিন ভিড়ে ঠাসা সভা থেকে দলের কর্মী-সমর্থকদের আশ্বস্ত করেন তিনি। হাসপাতাল থেকে স্টেডিয়াম, সব ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য ভাঙড়ে শওকত এবং ক্যানিং পূর্বে তৃণমূল প্রার্থী বাহারুল ইসলামকে জেতানোর আবেদন রাখেন তিনি।

    ভাঙড়ের জনসভা থেকে এদিন নাম না করে আইএসএফ-কেও কড়া আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর  বক্তব্য, ‘ভাঙড়ে এমন কিছু বিজেপির দালাল আছে, যারা টুক করে বোম মারে আর বিজেপিকে ফোন করে বলে, একে অ্যারেস্ট করাও। ওরা বিজেপির টাকায় চলে।’ এই সূত্রে মমতার হুঁশিয়ারি, ‘বোমা-বন্দুক দিয়ে আমাকে দমানো যাবে না। বিজেপিকে দেখে নেব।’ 

    এদিনই সোনারপুর দক্ষিণে জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই আসনে লাভলি মৈত্র তৃণমূলের টিকিট পাবেন কি না, তা নিয়ে জলঘোলা হচ্ছিল ভোটের আগে থেকেই। শেষমেষ দল তাঁকেই প্রার্থী করে। এদিন লাভলির সমর্থনে মমতা বলেন, ‘নতুন যারা হয়, নতুন বাড়িতে ঢুকতে গিয়ে একটু ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। আমার কি ভুল হয়নি? ওরও অজান্তে ভুল হয়েছে। সেটা শুধরে নেওয়ার সময় দিন। ও পার্টির খুব অনুগত।’ পাশাপাশি সোনারপুর উত্তরের বিজেপি প্রার্থীকে নাম না করে খোঁচা দিতেও ছাড়েননি তিনি। মমতার বক্তব্য, ‘ফেরদৌসির বিরুদ্ধে যিনি দাঁড়িয়েছেন, তাঁর কথা মুখে আনব না। কয়েক বছর আগে শীতলকুচিতে তাঁর নির্দেশেই গুলি করে  নিরীহ কয়েকজন ভোটারকে মারা হয়েছিল। আর লাভলির বিরুদ্ধে কে দাঁড়িয়েছে, জানি না। খোঁজও রাখি না।’
  • Link to this news (বর্তমান)