• ভ্যাপসা গরমে গলদঘর্ম অবস্থা হলেও ‘দিদি’র জন্য ক্লান্তিহীন মহিলা ব্রিগেড
    বর্তমান | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: তপ্ত দুপুর। তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করেই মাঠমুখী হতে শুরু করলেন পুরুষ-মহিলারা। একদিকে বারুইপুর ও সোনারপুর, অন্যদিকে ভাঙড়—জেলার তিন কেন্দ্রে  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিন নির্বাচনি সভা। নির্ধারিত সময়েরও বেশ কিছুটা পর সভাস্থলে এসে পৌঁছান মমতা। তাতে অবশ্য জোড়াফুল শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের বিপুল উৎসাহকে দমানো যায়নি। গলদঘর্ম অবস্থা হলেও কেউ নিজের জায়গা থেকে উঠে চলে যাননি। ক্লান্তিহীন অংশগ্রহণ ছিল মহিলা ব্রিগেডের। গৃহিণীরা বাড়ির কাজ সেরে বাচ্চাদের কোলে নিয়ে পৌঁছে যান মাঠে। পুরুষরাও কাজকর্ম থেকে সেদিনকার মতো ছুটি নিয়ে চলে আসেন ‘দিদি’কে এক ঝলক দেখার জন্য। তিনটি সভাতেই এদিন ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মহিলাদের বিপুল উপস্থিতি দেখে উচ্ছ্বসিত মমতাকে ভাঙড়ের সভায় বলতে শোনা যায়, ‘মহিলারাই আমার অনুপ্রেরণা।’

    এদিন বারুইপুরের রাসমাঠে মানুষের ভিড় একটা সময় উপচে পড়ে। নিউ ইন্ডিয়ান মাঠে হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডে ব্যারিকেডের দু’ধারেও ছিল উৎসুক জনতার ভিড়। মমতা নামতেই মোবাইলে ছবি তোলার হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। বারুইপুর পশ্চিম ও বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কার্যত ভিড়ে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। দুপুর ১২টার পর মুখ্যমন্ত্রীর আসার কথা ছিল রাসমাঠে। তাঁর কিছুটা দেরি হলেও ভিড়ের উচ্ছ্বাসে কোনো কমতি হয়নি। মাঠে সবার মাথায় ছিল জোড়াফুল আঁকা টুপি। কেউ এসেছেন কল্যাণপুর থেকে, কারও বাড়ি বেলেগাছি। দুই প্রার্থী বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিভাস সর্দার মঞ্চ থেকে নেমে এসে মহিলাদের সঙ্গে দেখা করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তৃণমূল সুপ্রিমো সভায় আসেন দুপুর ২.৩০টা নাগাদ। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি। ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ওঠে। ভাঙড়ের ভোজেরহাটে মুখ্যমন্ত্রী আসেন ৩টের পর। তার কয়েক ঘণ্টা আগেই মাঠ পরিপূর্ণ হয়ে যায়। মহিলাদের জন্য সামনের আসনগুলি ফাঁকা রাখা হয়েছিল। নিমেষের মধ্যে ভরে যায় সেই জায়গা। তখনও বহু মহিলা বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। অনেকে বললেন, ‘দিদিকে প্রথমবার দেখব বলে সকালে রান্নাবান্না সেরে, কাজকর্ম মিটিয়ে চলে এসেছি।’ এক মহিলা সমর্থকের কথায়, ‘টিভির পর্দায় মুখ্যমন্ত্রীকে দেখেছি। তাঁকে একবার কাছ থেকে দেখার ইচ্ছা ছিল। তাই আজকে কাজে না গিয়ে সকাল সকাল চলে এসেছি।’ সোনারপুরেও একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে। জেলার তৃতীয় সভা হয়েছে এখানেই। এখানেও তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একইরকম উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে। সোনারপুর ও বারুইপুর নিয়ে স্মৃতিচারণা করেন মমতা। ফিরে যান তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরুর সময়ে। জানান, এখান থেকেই তিনি লোকসভায় প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছিলেন। কোথায় কী কাজ হয়েছে, কোন রাস্তা সরকার করেছে, ক’টি ফ্লাইওভার হয়েছে—এসব পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য তুলে ধরে প্রার্থীদের জেতানোর ডাক দেন তিনি। 
  • Link to this news (বর্তমান)