সংবাদদাতা, বনগাঁ: বছর দুয়েক আগে বাড়ির সামনে ছোট্ট একটি দোকান করেছেন বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রের পারুইপাড়ার বাসিন্দা দীনেশ মাঝি। ছোটোবেলা থেকেই মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এখন আর মাছ ধরেন না। ধরবেনই বা কোথায়? এলাকার নদীতে তো জলই নেই। খাল বিল সব শুকিয়ে গিয়েছে। বাধ্য হয়েই এখন দিনমজুরের কাজ করেন। কিন্তু রোজ তো কাজ মেলে না। তাই সংসার চালাতে বাড়ির সামনে একটি দোকান করেছেন।
দোকানের পাশে বসার মাচা তৈরি করছিলেন দীনেশ। কাজের কথা জিজ্ঞাসা করতেই তিনি বলেন, নদীতে জল নেই। মাছ ধরে সংসার চলে না। তাই এই দোকানটা করেছি। নেতারা আসেন ভোটের আগে। নদী সংস্কারের কথা বলেন। ভোটের পর আর তাঁদের দেখা পাওয়া যায় না। কিন্তু আমাদের তো বেঁচে থাকতে হবে। মাঝেমধ্যে দিনমজুরের কাজে যাই। কিন্তু সেটাও তো রোজ হয় না।
শুধু দীনেশ নন। নদী-নালা শুকিয়ে যাওয়ায় বনগাঁর পারুইপাড়ার বাসিন্দাদের অনেকেই বিকল্প পেশা বেছে নিয়েছেন। কেউ দিনমজুরের কাজ করছেন। কেউ বা ভ্যান চালাতে কিংবা অন্য কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁদের কথায়, ভোট এলে নেতারা এসে আশ্বাস দেন যে ভোটে জিতেই নদী সংস্কার করবেন। কিন্তু ভোট মিটলে আমাদের কথা ভুলে যান। বনগাঁর পারুইপাড়ায় প্রায় ১৩০ পরিবারের বাস। পাশে রয়েছে ডুমা বাঁওর। এই জলাশয়ই এক সময়ে ছিল গ্রামের বাসিন্দাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন। এখন জলাশয়ের বুকে আগাছা আর কচুরিপানা ভরতি। কোথাও কোথাও হাঁটু জল দেখা যায়। কেউ কেউ সেই জলেই মাছ ধরে সাধের পেশা বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। তবে সেই আয়ে সংসার চলে না।
ঘরের দাওয়ায় বসে কচুর লতি কাটছিলেন বছর পঁয়ষট্টির ষষ্ঠী সরকার। একসময় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। নদীতে জল নেই। মাছ হয় না। বয়সের জন্য ভারী কাজও করতে পারেন না। এখন কাজ হারিয়ে বাড়িতেই বসে থাকেন। তিনি বলেন, পৌষ মাস থেকে বাড়িতে বসে আছি। কাজ নেই। সামনে বর্ষা আসছে। তখন নদী নালায় জল হলে মাছ ধরবো। একই ছবি বনগাঁর পারুইপাড়া জুড়ে। রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদল হয়। বদল হয় না পারুইপাড়ার বাসিন্দাদের জীবন। বাপ ঠাকুরদার পেশা আঁকড়ে আজও অপেক্ষায় আছেন বাসিন্দারা, কবে আবার স্রোত বইবে নদী-নালায়!