নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুথের নিরাপত্তায় আরও কঠোর পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন। বুথের চারপাশে থাকছে ‘লক্ষ্মণরেখা’। জানা যাচ্ছে, পোলিং বুথের চারপাশে এবার সাদা চক দিয়ে ১০০ মিটার বৃত্ত এঁকে নির্দিষ্ট সীমান্ত চিহ্নিত করে দেওয়া হবে। ওই সীমার মধ্যে ভোটার ছাড়া অন্য কারও প্রবেশের অনুমতি থাকবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ কমিশনের।
এঁকে দেওয়া এই লক্ষ্মণরেখার বাইরে থাকবেন বিএলও এবং সরকারি আধিকারিক। যাঁরা প্রাথমিক নথি যাচাই করবেন। এছাড়াও গণ্ডির ভিতরে থাকবে আরও একধাপ নিরাপত্তা বলয়। দুটি টেবিলে নতুন করে ভোটারদের নথি পরীক্ষা করা হবে। ভুয়ো ভোটার ঠেকাতে এহেন পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ ভোট করাতে একাধিকস্তরে নজরদারির ব্যবস্থা কমিশন নিচ্ছে ।
ভোটার স্লিপ বিলির ক্ষেত্রেও একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। এবার ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ভোটার স্লিপ পৌঁছে দেবেন বিএলওরা। তবে এখানে দায়িত্ব শেষ নয়, ভোটার স্লিপ বিতরণে কেউ যদি বাদ পড়ে যান, সেই সংক্রান্ত তথ্য প্রিসাইডিং অফিসারকে রাখতে হবে। কেন তাঁকে দেওয়া যায়নি সেই সংক্রান্ত তথ্যও প্রিসাইডিং অফিসারকে জানিয়ে রাখতে হবে। শুধু তাই নয়, ভোটের দিন যদি এমন কোনো ভোটার কেন্দ্রে আসেন, যিনি স্লিপ বিলির সময় বাড়িতে ছিলেন না, তবে তাঁকে অনুপস্থিত থাকার কারণ জিজ্ঞাসা করবেন প্রিসাইডিং অফিসার। যদিও চূড়ান্তভাবে ভোটদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম এবং ছবি ভোটার তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখে অনুমতি দেওয়া হবে।
পাশাপাশি, প্রথম দফা ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগেই আগে সীমানা সিল করে দেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে। কমিশন সূত্রে খবর, বর্ডার লাগোয়া অঞ্চল দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া নজরদারি চালানো হবে। শুধু তাই নয়, সীমান্তের ওপার থেকে যাতে কেউ এপারে ঢুকতে না পারে, এদিক থেকেও যাতে কেউ ওপারে যেতে না পারে, সে ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সাধারণত ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে এই ধরনের কড়াকড়ি কার্যকর হয়। তবে এ বার পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে অনেক আগে সেই বিধিনিষেধ চালু করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারেও জোর দিচ্ছে কমিশন—সীমান্ত এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
এতেই শেষ নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। যাঁদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। পাশাপাশি, এলাকায় যারা অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলে চিহ্নিত, তাঁদের কাউকে বাইরে রাখা যাবে না—অবিলম্বে শনাক্ত করে আটক করার নির্দেশও স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে।