কলকাতায় লাইসেন্সহীন গেস্ট হাউস ও হোটেলগুলির তালিকা নিল লালবাজার
বর্তমান | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: স্ত্রীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে, পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানার দক্ষিণ দুর্গাপুর এলাকায়। মৃত বধূর নাম অনুরূপা হালদার (৪২)। জানা গিয়েছে, প্রায় ২২ বছর আগে হরপ্রসাদ হালদারের সঙ্গে অনুরূপার বিয়ে হয়েছিল। বর্তমানে তাঁদের কুড়ি বছরের একটি ছেলেও রয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ লেগে থাকত। ঘটনার দিন সকালেও দু’জনের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। এদিন রাতে সেই অশান্তি চরমে পৌঁছয়। এরপরই হরপ্রসাদ ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করেন বলে অভিযোগ। তবে সেকথা তখন প্রতিবেশীরা কেউ জানতে পারেননি। শনিবার সকালে মৃতার বাপের বাড়ি থেকে কয়েকজন এসেছিলেন বধূর সঙ্গে দেখা করতে। তখন ঘটনার কথা জানাজানি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরপ্রসাদ দীর্ঘদিন ধরে ভিন রাজ্যে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রী ও পুত্রকে দেখাশোনা করতেন না। তাই তাঁর স্ত্রী অনুরূপা পুত্রকে সঙ্গে নিয়ে বাপের বাড়িতে থাকতেন। তবে ১৫ দিন আগে হরপ্রসাদ কেরল থেকে কাজ সেরে বাড়িতে ফেরেন। এরপরই তিনি স্ত্রী ও পুত্রকে বুঝিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কিছুদিন তাঁরা ভালো ছিলেন। তারপর থেকে ফের নিজেদের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়।
এবিষয়ে দম্পতির পুত্র পীযূষ হালদার বলেন, আমি একটি দোকানে কাজ করি। ঘটনার সময়ে বাড়িতে ছিলাম না। এক প্রতিবেশী ফোন করে বিষয়টি জানান। এরপর বাড়িতে ফিরে গিয়ে দেখি, মা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছেন। এজন্য বাবাই দোষী। অতীতেও বাবা বহুবার মাকে মারধর করেছেন। তখন প্রতিবেশীরা বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এবারে আর মাকে বাঁচানো সম্ভব হল না।
পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এছাড়াও অনুরূপার স্বামী হরপ্রসাদকে গ্রেপ্তার করেছে। সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। হরপ্রসাদকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দাম্পত্য কলহ থেকেই এই খুন।