সৌম্যজিৎ সাহা, সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, পাপ্পা গুহ উলুবেড়িয়া, ভাঙড় ও বারুইপুর: বিরোধীরা এককাট্টা হলে কেন্দ্রের মোদি সরকারের ‘জনবিরোধী’ পদক্ষেপ যে রুখে দেওয়া সম্ভব, শুক্রবার তার প্রমাণ মিলেছে। বিরোধীরা একজোট হয়ে বানচাল করে দিয়েছে মহিলা সংরক্ষণ আইনের আড়ালে এলাকা পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) বিল পাশ করানোর ‘কারসাজি’। সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে গিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন মোদি-শাহ জুটি। তখনই অনেকে মনে করেছিলেন, সংসদে শাসক শিবিরের এই হার ভোটমুখী বঙ্গে তৃণমূলকে বাড়তি অক্সিজেন দেবে। হলও তাই! শনিবার উলুবেড়িয়ার নির্বাচনি সভা থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রত্যয়ী কণ্ঠে জানিয়ে দিলেন, ‘মোদির পতন শুরু হয়ে গিয়েছে।’ সেই সঙ্গে বুঝিয়ে দিলেন, বাংলা জেতার পর দিল্লি দখলের যে বার্তা তৃণমূল দিয়ে রেখেছে, ঘটনাক্রম ইঙ্গিত করছে সেদিকেই। দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে পরপর সভায় জনজোয়ারকে সাক্ষী রেখে মমতা বলেন, ‘আবার বলছি, বাংলা জয়ের পর আমাদের টার্গেট দিল্লি। আর সেটাই হবে। মোদির পতন শুরু হয়ে গিয়েছে। মুখে ঝামা ঘষে দেওয়া হয়েছে। বাংলার মানুষ আরও একবার ঝামা ঘষে দেবে। গতকাল লোকসভায় পরাস্ত করেছি। এবার বাংলার মাটিতে পরাস্ত করব।’ বিজেপি-কমিশনের ‘খেলায়’ ইতি টেনে চতুর্থবারের জন্য তিনিই যে বাংলায় সরকার গঠন করতে চলেছেন, সে কথা আরও একবার দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
এদিন হাওড়ার উলুবেড়িয়া থেকে শুরু করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর, ভাঙড় এবং সোনারপুরে পরপর সভা করেন মমতা। প্রতিটি জনসভায় সংসদে বিল পাশ করাতে না পারার প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন বাংলার অগ্নিকন্যা। রীতিমতো কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, ‘চন্দ্রবাবু নাইডুর তেলুগু দেশম পার্টি এবং নীতীশ কুমারের জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর সমর্থনে চলা কেন্দ্রীয় সরকার আদতে যে মাইনরিটি সরকার, সেটা শুক্রবারই প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। আগস্টের পরে আর মোদি সরকার টিকবে না।’ তাঁর দাবি যে ভিত্তিহীন নয়, বরং ঘোর বাস্তব, তাও জনগণকে বুঝিয়ে বলেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘মহিলা সংরক্ষণের জন্য আমি সেই ৯৮ সাল থেকে লড়াই করছি। কিন্তু এটা মহিলা বিল নয়। ওরা এক শ্রেণির মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে ভুলভাল প্রচার চালাচ্ছে। আসলে দেশকে এবং বাংলা সহ অন্যান্য রাজ্যকে ভাগ করতে এই বিলটা এনেছিল ওরা। কারণ, ওরা জানে, এখনকার মতো ৫৪৩টি লোকসভা আসন থাকলে ওরা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তাই ৮৫০টি লোকসভা কেন্দ্র করার জন্য এটা ছিল ওঁর গেম। কিন্তু মনে রাখবেন, দেশভাগ করতে আমরা দেব না। বঙ্গ ভাগ করতেও দেব না।’ দেশ ও রাজ্যকে ডিলিমিটেশনের নামে আরও বিভাজিত করার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করে এদিন মমতা বিজেপিকেই ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, ‘ডিলিমিটেশনের পরে ডিটেনশন ক্যাম্প করে এনআরসি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে গেরুয়া শিবিরের।’ শুক্রবার সংসদে বিজেপির পেশ করা বিলের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন তৃণমূলের ২১ জন সাংসদ। সেই লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল বাংলার মানুষকে বিজেপি বিরোধী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার ডাক দেন জননেত্রী। তাঁর সাফ কথা, ‘ভাঙড় হোক বা বারুইপুর—সারা বাংলায় যারা বিজেপির হাত শক্ত করছে, তাদের গণতান্ত্রিকভাবে পরাস্ত করুন।’