• দিদির স্বপ্ন সত্যি হোক, তৃণমূলেই পড়বে ভোট, বেলেঘাটায় কুণালের সিগন্যাল ‘সবুজ’
    বর্তমান | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • রাহুল চক্রবর্তী, বেলেঘাটা: চেক হাফ শার্ট। ফর্মাল প্যান্ট। বাঁ-হাতে ঘড়ি। অনর্গল তথ্যভিত্তিক বক্তব্য রাখতে পারেন। পাতার পর পাতা লিখতে পারেন। ফুটবল অন্ত প্রাণ। সময় পেলে সবুজ মেরুন জার্সিটা গায়ে জড়িয়ে নেমে পড়েন সবুজ বাগিচায়। আবার গলি ক্রিকেটেও ব্যাট ঘোরান। রাজনীতি থেকে প্রশাসনিক স্তরের অলিগলি, কলকাতা থেকে দিল্লি, খবরের খোঁজে ফোন চলে নিয়মিত। পেশায় সাংবাদিক। আগে ছিলেন সাংসদ। এখন বিধায়ক হওয়ার দৌড়ে। বেলেঘাটা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কুণাল ঘোষ। নেতা সুলভ সাদা পায়জামা, পাঞ্জাবি বা সাদা চটি পড়ে ঘুরতে পছন্দ করেন না। চেষ্টা করেন নিজের সাধ্যমতো সব মানুষের পাশে থাকতে। যে কারণে বেলেঘাটা বিল্ডিং মোড় থেকে মেইন রোড ধরে সোজা হেঁটে গেলে রাস্তার দুপাশে শুধু চোখে পড়বে কুণালের দেওয়াল লিখন, পোস্টার, ব্যানার। সিপিএমের পারমিতা রায় কিংবা বিজেপির পার্থ চৌধুরীর হোর্ডিং দূরবীন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কংগ্রেস প্রার্থী সাহিনা জাভেদ তো আরও পিছনে। যে কারণে বেলেঘাটা গান্ধী ভবনের অনতিদূরে চোখে পড়ল একটি পোস্টার। যেখানে লেখা, ‘খেলছে কুণাল, খেলবে কুণাল, মারবে কুণাল ছয়।’ কটা ছয় মারবেন, সেটা ৪ মে জানা যাবে। তবে কুণালের সিগন্যাল যে ‘গ্রিন’, তা এখনই বলে দেওয়া যায়। কারণ, বিরোধীদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

    ১৯৭৭ থেকে টানা ২০০৬ সাল পর্যন্ত বেলেঘাটা বিধানসভায় উড়েছে লাল ঝান্ডা। পরেশ পালের হাত ধরে ২০১১ সালে সবুজ আবির ওড়ে এখানে। ২০১১, ২০১৬, ২০২১— পর পর তিনবার বিধায়ক পরেশ পাল। শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় এবার ভোটে লড়ছেন না। তবে ঘোষণা করে দিয়েছেন, ‘বেলেঘাটায় আমার উত্তরসুরি কুণাল। ও শুধু জিতবেই না, বেলেঘাটার উন্নয়নে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।’ পরেশের আশীর্বাদ নিয়ে কুণাল বলছেন, ‘মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নকে সমর্থন করছেন। সেখানে আমি একজন সৈনিক মাত্র।’ আর স্থানীয়রা বলছেন, ‘দিদির স্বপ্ন সত্যি হোক।’

    ২৮, ২৯, ৩০, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬ এবং ৫৭ নম্বর কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বেলেঘাটা বিধানসভা কেন্দ্র। আটটি ওয়ার্ডেই তৃণমূলের কাউন্সিলার। তাই কুণালের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীর বিরুদ্ধে সিপিএমকে পুরানো ইতিহাস তুলে আনতে হয়েছে। সারদায় গ্রেফতার হওয়া কিংবা প্রিজন ভ্যানের ছবি তুলে ধরে প্রচার করতে হচ্ছে বামেদের। সিপিএম প্রার্থী পারমিতা রায় বলেন, ‘২০১১ সাল থেকে মানুষকে আর ভোট দিতে দেওয়া হয় না। দুষ্কৃতীদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে এই এলাকা। এবার মানুষ ভোট দেবেন এবং সিপিএমকে ফিরিয়ে আনবেন।’ আর এলাকাবাসীর সহাস্য মন্তব্য, ‘বিজেপি প্রার্থী পার্থ চৌধুরীকে তো চিনিই না।’ তাই ৩৩-৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগস্থলে চোখে পড়ল কুণাল ঘোষ অভিনীত ‘কর্পূর’ সিনেমার পোস্টার। বার্তাটা স্পষ্ট, বিরোধীরা উবে যাবে। তখন বেলেঘাটা অঞ্চলে দাঁড়িয়ে কুণাল। ফোনের রিং টোনে বাজছে, ‘তবু মনে রেখো...।’
  • Link to this news (বর্তমান)