পাথরপ্রতিমায় তৃণমূল প্রার্থীর সামনে বামেদের রেকর্ড স্পর্শ করার হাতছানি
বর্তমান | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সৌম্যজিৎ সাহা, পাথরপ্রতিমা: পাথরপ্রতিমা বিধানসভায় কেন্দ্র ১৯৬৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত ছিল এসইউসি’র। ওই দল থেকে তিনজন বিধায়ক হয়েছিলেন। তারপর বামেরা ক্ষমতায় আসে। ১৯৭৭ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত চারবার ছিল তাদের বিধায়ক। সেই রেকর্ড এখনও অক্ষত। এবার সে রেকর্ড স্পর্শ করার সুযোগ বর্ষীয়ান তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সমীর জানার কাছে। তিনি ২০১১ থেকে এখনও পর্যন্ত একটানা বিধায়ক। এবারের নির্বাচনে সমীরবাবু জয়ী হলে প্রায় তিনদশক বাদে কোনো ডানপন্থী দলের জনপ্রতিনিধি টানা চারবার এই কেন্দ্র থেকে বিধানসভায় যাবেন। একদা বাম ও কংগ্রেসের ঘাঁটি বলে পরিচিত ছিল পাথরপ্রতিমা। এখন সেখানে ওই দুই দলের হালই শোচনীয়। তাদের অস্তিত্ব শুধু টিকিয়ে রেখেছে একটি মাত্র পঞ্চায়েত। যেখানে বাম ও কংগ্রেসের জোট ক্ষমতায় আছে। এখানে তৃণমূলের মূল লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে।
সমীরবাবু টানা তিনবারের বিধায়ক হলেও ভোটে লড়েছেন পাঁচবার। ফলে এই ময়দানে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে তাঁর। বড়ো বড়ো মিছিল নয় বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগের মাধ্যমে প্রচার করছেন তিনি। ভালো সাড়া মিলছে বলে প্রার্থীর দাবি। এক দ্বীপ থেকে আর এক দ্বীপ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘুরছেন। গ্রামের মানুষজন এগিয়ে এসে কেউ প্রণাম করছেন কেউ ফুল-মালা দিয়ে সংবর্ধনা দিচ্ছেন। রামগঙ্গা, কে প্লট, জি প্লট, আচিন্ত্যনগর প্রভৃতি এলাকায় একই চিত্র। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগছেন না সমীর। বয়স বাড়লেও দিনরাত পরিশ্রম করছেন পাথরপ্রতিমার মতো দ্বীপাঞ্চলে ঘাসফুল ফোটাতে। তৃণমূল বলছে, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হবে। বিরোধিদের সেভাবে দেখা যাচ্ছে না।
এই বিধানসভায় একসময় বাম ও কংগ্রেসের মধ্যে কড়া লড়াই হত। দুই দলের অনেকেই এখান থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন। ২০১১ সালের পর থেকে এখন একচেটিয়া আধিপত্য তৃণমূলের। সিপিএম এবং কংগ্রেসের ভোটে ধস নেমেছে। সেটা এখন পদ্মপার্টিতে চলে গিয়েছে বলে মনে করছে মানুষ। তবে দূর্বাচটি পঞ্চায়েতে এখনও সিপিএম এবং কংগ্রেসের জোট। যদিও এবারের ভোটে এই দুই দলই প্রার্থী দিয়েছে। সেক্ষেত্রে ওই পঞ্চায়েত থেকে ভোট কতটা ভাগ হবে সেটাও দেখার।
২০২১ সালে পরাজিত হওয়া বিজেপি প্রার্থী অসিতকুমার হালদারকে এবারও টিকিট দিয়েছে দল। পরাজিত তকমা ঝেড়ে ফেলে জায়ান্ট কিলার হতে চাইছেন তিনি। অসিতবাবু বলেন, সমীরবাবু বয়সে প্রবীণ, অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু ভোটের ময়দানে সেটা কোনো কাজে আসবে না। মানুষ আবেগে বিশ্বাস করে না। তাছাড়া আগের বিধানসভা ভোটের তুলনায় এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। এখানকার অনুন্নয়নকে তুলে ধরে প্রচার করছি আমরা। মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে। প্রায় ৩০ বছর ধরে সিপিএম করেন প্রার্থী সত্যরঞ্জন দাস। তিনি বহুদিনের পার্টিকর্মী হলেও ভোটে নবাগত। তাঁর বক্তব্য, এখানে অনেক উন্নয়ন বাকি আছে। সাতটি সেতু থেকে শুরু করে ভগবতপুর কুমির প্রকল্পের আধুনিকীকরণ সহ একাধিক কাজ করা হবে।
সমীরবাবু অভিজ্ঞ ঠিকই কিন্তু ভোটে লড়াইয়ে এর কোনো আলাদা দাম নেই। মানুষ কাজের ভিত্তিতে ভোট দেবেন। তৃণমূল প্রার্থী অবশ্য বাম ও বিজেপিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁর কথায়, ওরা কোনো ফ্যাক্টর নয়। মানুষ উন্নয়ন দেখে তৃণমূলকে ভোট দেবেন। তাছাড়া বিজেপি প্রার্থী তো এখানে পরীক্ষিত। হেরেছেন আগেরবার। ফলে এবারও তার অন্যথা হবে না। তবে এখানেও সেটিং তত্ত্ব নিয়ে এক অপরকে আক্রমণ করতে ছাড়ছেন না রাম ও বাম প্রার্থীরা। তাতে অবশ্য আমল দিতে নারাজ তৃণমূল।