• ৫০ হাজারে জেতার টার্গেট, জোর প্রচারে স্বরূপনগরের তৃণমূল প্রার্থী
    বর্তমান | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সীমান্তবর্তী স্বরূপনগর বিধানসভা আসনে এবার সমীকরণের কেন্দ্রে উঠে এসেছে উন্নয়ন ও সামাজিক প্রকল্পের প্রভাব। গত কয়েক বছরে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, গ্রামীণ পরিকাঠামোর বিস্তার এবং একাধিক জনমুখী প্রকল্পের বাস্তবায়নের স্পষ্ট ছবি প্রচারে তুলে ধরেছেন তৃণমূল প্রার্থী বীণা মণ্ডল। এবারের ভোটে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সংখ্যালঘু ভোট। যা এই আসনে নির্ণায়ক হয়ে ওঠে বরাবর। তবে, এই বিধানসভা কেন্দ্রে শাসকদলের প্রথম সারির একাধিক নেতা এখনও সেভাবে প্রচারে নামেননি। সেই তালিকায় আছেন বেশ কয়েকজন পঞ্চায়েত সদস্য ও দলীয় পদাধিকারীরা। তাঁদের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে এলাকায় চাপা গুঞ্জন রয়েছে। যদিও তৃণমূলের দাবি, সবাই সমানভাবেই কাজ করছেন। প্রার্থী বীণাদেবী ৫০ হাজার ভোটে জেতার টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন কর্মীদের।

    এলাকার একাধিক গ্রাম ও বাজারে এখন পাকা রাস্তা। ফলে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। নাগরিক পরিষেবাও সহজলভ্য হয়েছে। এইসব পরিবর্তনকেই প্রচারে তুলে ধরছেন তৃণমূল প্রার্থী বীণা মণ্ডল। সবুজসাথী, কন্যাশ্রী, যুবসাথী ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনে। এই বিধানসভা কেন্দ্রে মহিলা ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তেমনই প্রভাব রয়েছে সংখ্যালঘু অংশের ভোটারদের। এই দুইয়ের প্রভাব মাইলেজ দিচ্ছে শাসকদলকে। রাজনৈতিক মহলের অভিমত, এই দুই অংশের ভোটই শেষ পর্যন্ত নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।

    তৃণমূলের বিশ্বাস, রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এসআইআরে বিচারাধীন অবস্থায় আটকে গিয়েছে মোট ৮,৭৫৩ জনের নাম। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় মানুষের মধ্যে চাপা অসন্তোষ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই তৃণমূল নেতা রমেন সর্দার বলছেন, এলাকায় আগে যে ধরনের সমস্যা ছিল, এখন তা অনেকটাই বদলেছে। রাস্তা, জল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সব ক্ষেত্রেই উন্নয়ন হয়েছে। বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন। সংখ্যালঘু সহ সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ এই উন্নয়নের শরিক। তাই তাঁরা ফের উন্নয়নের পক্ষেই রায় দেবেন।

    প্রার্থী বীণা মণ্ডলের কথায়, মানুষ কাজ দেখেই সিদ্ধান্ত নেন। তিনবার তাঁরা আমাকে ভরসা করেছেন, কারণ আমি তাঁদের পাশে থেকেই উন্নয়নের কাজ করেছি। এবারও সেই কাজের জন্যই মানুষের সমর্থন পাব বলে বিশ্বাস করি। আমার টার্গেট ৫০ হাজার ভোটে জেতা। এদিকে, অভিমানী নেতাদের কথায়, প্রার্থী একবারও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। নিজের কাছের লোকদের নিয়ে প্রচার করছেন তিনি। আমাদেরও তো এলাকায় সম্মান আছে! 
  • Link to this news (বর্তমান)