পাহাড়ে এবার লোবেরা-ব্রিগেডের অ্যাসিড টেস্ট। প্রতিপক্ষ নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড। লিগ টেবিলের লড়াই যে জায়গায় দাঁড়িয়ে, তাতে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও নারাজ বাগান শিবির। পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে সেই রুদ্ধশ্বাস জয়ের টাটকা অক্সিজেন নিয়েই শনিবার গুয়াহাটি উড়ে গিয়েছে মোহনবাগান। কিন্তু পাহাড়ে জয়ের রাস্তা কি আদৌ মসৃণ হবে? উত্তরটা বোধহয় লোবেরার কুঁচকানো কপালেই লুকিয়ে।
পাহাড়ের দলটা এবার ধারাবাহিক নয় ঠিকই, কিন্তু ঘরের মাঠে তারা যে কোনও দলের জন্য কাঁটা বিছিয়ে রাখতে ওস্তাদ। লোবেরা নিজে কিন্তু সতর্ক। মানছেন, নর্থইস্টকে হালকাভাবে নেওয়া মানেই বড় ভুল করা। কিন্তু বাগান কোচের আসল চিন্তা তো ঘরের চোট-আঘাত। মাঝমাঠের জেনারেল আপুইয়া নেই। রক্ষণভাগ সামলানো আলবার্তোকে নিয়েও ধোঁয়াশা কাটেনি। ডাগআউটে বসে বিকল্প ভাবতেই কালঘাম ছুটছে মোহনবাগান কোচের।
তবে এই মেঘাচ্ছন্ন আকাশের মধ্যেও রুপোলি রেখা হয়ে দেখা দিচ্ছেন সাহাল আবদুল সামাদ। পাঞ্জাব ম্যাচে সেই দুরন্ত গোল যেন তাঁর জাত চিনিয়ে দিয়েছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হল, কোচের ‘ফেভারিট’ হওয়া সত্ত্বেও প্রথম একাদশে ব্রাত্য থাকছেন সাহাল। লোবেরা মুখে বলছেন, “আমি সবসময় সাহালের কোচ হতে চেয়েছি।” কিন্তু বাস্তবের মাটিতে সাহাল এখনও সেই ‘সুপার সাব’। সাহাল নিজেও কিন্তু আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন, প্রথম একাদশে ঢোকার জন্য তিনি মুখিয়ে আছেন।
আসলে বাগান কোচের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল খেতাবের চাপ সামলানো। লোবেরা বলছেন, এই চাপটাই তাঁদের কাছে মোটিভেশন। কিন্তু প্রশ্নটা হল, পাহাড়ে চোটের ধাক্কা সামলে সাহালদের স্কিল কি পারবে মোহনবাগানের জয়ের পালতোলা নৌকোকে ভাসিয়ে রাখতে? রবিবারের গুয়াহাটিই দেবে সেই উত্তর। সব মিলিয়ে এক টানটান উত্তেজনার প্রেক্ষাপট তৈরি। লড়াইটা শুধু ফুটবলের নয়, লড়াইটা বাগান সাজঘরের মানসিক দৃঢ়তারও।