• ভালো সিনেমা আর মন্দ সিনেমার ফারাকটা বুঝি: চঞ্চল চৌধুরী
    এই সময় | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • কলকাতা সেন্টার ফর ক্রিয়েটিভিটিতে আয়োজিত হয়েছিল ‘বৈঠকখানা’ অনুষ্ঠান। এ বারের বিষয় ‘সীমানা’। সেই অনুষ্ঠানেই অংশ নিতে উপস্থিত হয়েছিলেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী।

    দেবলীনা ঘোষ

    আর্ট ফিল্ম আর কমার্শিয়াল ফিল্মের সীমানা

    আমার মতে অবশ্যই আর্ট ফিল্ম আর কমার্শিয়াল ফিল্মের মধ্য একটা সীমানা রয়েছে। তবে ব্যক্তিবিশেষের ভাবনা আলাদা। প্রত্যেকটা ইন্ডাস্ট্রি আলাদা। আমরা এক ধরনের সিনেমা বানাই না। ভাগাভাগি একটা থাকবেই। বিভিন্ন রুচির দর্শক থাকবেনই। কাউকেই ছোট করে কথাটা বলছি না। সবাই আমাদের দর্শক। আমি ভালো সিনেমা আর মন্দ সিনেমার ফারাকটা বুঝি। কমার্শিয়াল সিনেমার সঙ্গে আমার কোনও শত্রুতা নেই। আবার আর্ট ফিল্মের সঙ্গে আমার কোনও আলাদা প্রেম নেই। আমি দর্শকদের জন্য কাজ করি। ভালো কোয়ালিটির কাজ দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। আসলে কমার্শিয়াল সিনেমার একটা ধাঁচ তৈরি হয়ে গিয়েছে। তবে দর্শকের রুচি পাল্টাচ্ছে। অনেক দর্শক আছেন যাঁরা জীবন-ঘনিষ্ঠ ছবি দেখতে পছন্দ করেন।

    পুরো টিমের সঙ্গে বোঝাপড়া

    কাজ করার আগে অবশ্যই দেখে নিই পরিচালকের সঙ্গে বোঝাপড়া রয়েছে কি না। শুধু তাই নয়, আমার সহশিল্পী কারা, টেকনিশিয়ান কারা আছেন, কে মেকআপ করছেন, কে ক্যামেরায় রয়েছেন— সব খবর নিই। যদি বুঝি কাজটা করতে পারব, তবেই করি। কারণ আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা সবার সঙ্গে ঠিক না থাকলে ভালো কাজ হয় না। অনেক সময়ে নতুন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করি। সে ক্ষেত্রে অনেকবার আলোচনা করি। বাংলাদেশে খুব একটা তাড়াহুড়ো করে কাজ হয় না। একটি ফিল্ম তৈরি করতে এক-দুই বছরের প্রিপারেশন থাকে। সেই এক-দুই বছরে বহুবার আলোচনা করি। তার পরে যদি মনে হয় কাজটা করতে পারব, তবেই করি।

    প্ল্যাটফর্ম নয়, চরিত্র অনুযায়ী বদল

    আমি চরিত্রের জন্য নিজেকে তৈরি করি। সেটা যে প্ল্যাটফর্মই হোক না কেন। পাত্রটা জরুরি নয়। আমার জন্য রান্নাটার স্বাদ হওয়া জরুরি। আমার অভিনয়টা যেন থিয়েটার, ওটিটি বা ফিল্মে ভালো হয়, সেটাই ফোকাস থাকে। প্রত্যেকটা মাধ্যমেই দীর্ঘদিন কাজ করছি। কোনও মাধ্যমে অভিনয়ের আগে আলাদা কিছু মাথায় রাখি না। বলতে পারেন, কোনও মাধ্যমের প্রতিই আমার একচোখা আচরণ নেই। আমার ভালোবাসা শুধু অভিনয়ের প্রতি।

    ক্রস বর্ডার ফিল্ম

    অবশ্যই ক্রস-বর্ডার ফিল্ম আমাকে সমৃদ্ধ করেছে। শুধু ভারত বা বাংলাদেশ বলে নয়, যে কোনও নির্মাতার কাছ থেকেই নতুন কিছু শেখা যায়। দেশের বাইরে যাওয়ারও দরকার নেই। দেশের মধ্যেও যখন নতুন পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করি, নতুন-নতুন জিনিস শিখি। প্রত্যেকের চিন্তাভাবনা, দর্শন আলাদা। তার ছাপ তো আমার অভিনয়ের উপর পড়বেই। আর আমার অভিনয়ও সমৃদ্ধ হবে।

    সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব সোশ্যাল মিডিয়া এখন রিয়্যালিটি। কিছু করার নেই। এগুলো নেশার মতো। আমি নিজের সন্তানকেও অনেক সময়ে কন্ট্রোল করতে পারি না। মানুষের জীবন এখন অনেক গতিশীল হয়েছে। আগে অনেক কাজ আমরা ম্যানুয়ালি করতাম, এখন সেগুলো করি না। এখন সময়টাই কারও হাতে নেই। ভালো নাটক, সিনেমা দেখা, নিজের মেধা তৈরি করার সময়টাই নেই। যে কোনও জিনিস চর্চা করতে কিছুটা সময় লাগে। সেই সময়টাই কেউ দিতে রাজি নন। কয়েক সেকেন্ডের রিল দেখেই খুশি। কষ্ট করে কেউ সিনেমাটা দেখছেন না। আবার যাঁরা সেই সময়টা দেওয়ার তাঁরা এখনও দিচ্ছেন। কিন্তু এটাকে অ্যাভয়েড করাও যাবে না। আমরা িপছনের দিকে তো হাঁটতে পারব না। কতটা ঠিকঠাক ভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা যায় সেটাই মাথায় রাখতে হবে।

    ধৈর্য রাখতে হবে

    সবাই একটা স্বপ্ন নিয়ে অভিনয় করতে আসেন। সেই স্বপ্নটা পূরণ করার জন্য যা-যা করা উচিত সেটা করতে হবে। আমি নিজে থিয়েটার করছি ২৫-৩০ বছর। এর বাইরে অন্য উপায় জানা নেই। থিয়েটার থেকে শেখা, তার পরে কাজ থেকে শেখা, এই ভাবেই চলছি। কোনও ফমুর্লা মেনে চললেই সফল হবেন, এ রকম কিছু জানা নেই। এটা সাধনার বিষয়। নির্দিষ্ট যে সময়টা লাগার তা লাগবেই। ১০-১৫টা বছর দিতে হবে। কষ্ট করতে হবে, সাধনা করতে হবে, চর্চা করতে হবে। এই ধৈর্যটা রাখতে হবে।

    কলকাতা প্রেম

    কালই ডাবিং করার সময়ে ভেলপুরি খেলাম। দারুণ লাগল। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আমার প্রিয়। এখানকার রোল, চাউমিন ভালো লাগে। কলকাতা হোক বা বাংলাদেশ, খাবারটা খেতে ভালো হলে তবেই খাই। যেগুলো ভালো লাগে খাই। আর খিদে পেলে খাই। কোনও রুটিন মানি না। আর এখানে এলে গায়ক বন্ধু বা অন্যান্য শিল্পী বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাই, আড্ডা দিই। কাজের বাইরে এগুলোই করি।
  • Link to this news (এই সময়)