• রাজ্যে ‘I-PAC’-এর কাজ বন্ধের খবর ‘ভুয়ো’ বলে দাবি তৃণমূলের
    এই সময় | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ভোটকুশলী সংস্থা ‘I-PAC’ বা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি এ রাজ্যের কর্মচারীদের ২০ দিনের ছুটিতে পাঠিয়েছে। ই-মেল মারফত এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। রবিবার সকাল থেকেই এই সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হতে থাকে। সেখানে বলা হয়, এই সংস্থা আপাতত এ রাজ্যে কাজ বন্ধ করেছে। আইপ্যাক দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের পরমার্শদাতা সংস্থা হিসেবে কাজ করে। দুপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে স্পষ্ট করা হলো, এই খবর সম্পূর্ণ ‘ভুয়ো’। আইপ্যাক পরিকল্পনামাফিক নির্বাচনী প্রচারের কাজে যুক্ত রয়েছে।

    তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, ‘আমাদের নজরে এমন একটি সংবাদ এসেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে I-PAC আগামী ২০ দিনের জন্য পশ্চিমবঙ্গে তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটি দলীয় স্তরে বিভ্রান্তি তৈরি করার একটি সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা বলে মনে হয়।’

    বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, শনিবার রাতে কলকাতা ও বিভিন্ন জেলায় এই সংস্থায় কর্মরতদের একটি ই-মেল পাঠানো হয়। সেখানে জানিয়ে দেওয়া হয়, কর্মচারীদের ২০ দিনের সাময়িক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ১১ মে-র পরে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। আইনি ‘বাধ্যবাধকতার’ কারণেই কাজ বন্ধ করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও তৃণমূলের বক্তব্য, ‘I-PAC-এর টিম AITC-এর সঙ্গে কাজ করে চলেছে এবং রাজ্য জুড়ে নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম পরিকল্পনা মাফিক অব্যাহত রয়েছে।’

    নির্বাচনের মুখে আইপ্যাকের কার্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তৃণমূলের প্রচার-সহ রাজনৈতিক কর্মসূচি বিঘ্নিত হবে বলে  জল্পনা ছড়িয়েছিল। সূত্রের খবর, এর পিছনে কোনও ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ থাকতে পারে বলেও মনে করছে তৃণমূল। রাজ্যের শাসকদলের তরফে বলা হয়েছে, ‘পশ্চিমবঙ্গ ভুল তথ্য বা কোনওপ্রকার ভীতির কাছে নতি স্বীকার করবে না। তারা ২৩ এবং ২৯ তারিখে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জবাব দেবে এবং ৪ঠা মে প্রকাশিত ফলাফলেই তাদের সেই রায় প্রতিফলিত হবে।’

    উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে দিল্লিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হাতে গ্রেপ্তার হ‍ন আইপ্যাকের অন্যতম সহ–প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেল। সোমবার রাতে পাতিয়ালা হাউস কোর্টের অ্যাডিশনাল সেশন জজ (অতিরিক্ত দায়রা বিচারক) শেফালি বারনালা টন্ডনের আদালতে অভিযুক্ত বিনেশ চান্দেলকে হাজির করানো হয়েছিল। বিচারক অভিযুক্তকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

    এর আগে গত ৮ জানুয়ারি আইপ্যাকের অন্যতম কর্ণধার প্রতীক জৈনের কলকাতার বাড়ি ও সল্টলেকে সংস্থার অফিসে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের তৎকালীন কর্তারা তল্লাশিতে বাধা দেন বলে অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ইডি।

  • Link to this news (এই সময়)