১২ বছরে প্রথম বার ব্যর্থতার মুখ দেখতে হয়েছে সংসদে। হারতে হয়েছে বিরোধীদের সম্মিলিত শক্তির কাছে। এই পরিস্থিতিতে মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে এ বার রাজনীতির ময়দানে নরেন্দ্র মোদী। লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত তিনটি সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে পাশ করাতে ব্যর্থ হওয়ার পর বাংলায় প্রথম নির্বাচনী জনসভায় এসেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী। অভিযোগ করলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র করেছে তৃণমূল। বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বাংলার মা-বোনেদের সঙ্গে।
২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যে আসন পুনর্বিন্যাস করতে চেয়েছিল মোদী সরকার। তার জন্য ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল এনেছিল তারা। কিন্তু সেই বিল পাশ করাতে যে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, তা ছিল না কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। ফলে যা হওয়ার তা-ই হয়েছে। বিল পাশ করতে পারেনি মোদী সরকার। তার পর থেকেই লাগাতার বিরোধীদের দুষে চলেছেন মোদী-সহ বিজেপির শীর্ষনেতারা। শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় জাতির উদ্দেশে আধ ঘণ্টার ভাষণের অধিকাংশ সময়ই মোদী ব্যয় করেছেন কংগ্রেসকে আক্রমণ করে। প্রধানমন্ত্রীর নিশানায় ছিল তৃণমূল, তামিলনাড়ুর শাসকদল ডিএমকে এবং উত্তরপ্রদেশের অখিলেশ যাদবের দল সমাজবাদী পার্টিও। তার পরেই রবিবার বাংলায় ভোটের প্রচারে এসে মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে সরব হলেন মোদী।
বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় মোদীর সভা ছিল। ভাষণ দিতে উঠে শুরুতেই মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে কথা বলা শুরু করেন মোদী। বলেন, ‘আমি চাই, বিকশিত ভারতের জন্য মেয়েরা এগিয়ে আসুন। রাজনীতিতেও মেয়েরা আসুন। কিন্তু আপনারা তো দেখলেন, সংসদে কী হল। তৃণমূল বাংলার বোনেদের সঙ্গে আবার বিশ্বাসঘাতকতা করল। ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চাইছিলেন মা-বোনেরা। মোদী সেই চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তৃণমূল তা চায়নি। ওরা চায়নি, বাংলার মেয়েরা সাংসদ-বিধায়ক হোন। তাই ওরা কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আইন করতে দিল না।’
যদিও মোদী সরকারের মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সংসদে পাল্টা দাবি জানিয়েছিল তৃণমূল। তাদের বক্তব্য ছিল, ৩৩ শতাংশ কেন, সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হোক। তৃণমূলের তরফে লোকসভায় বক্তৃতা করেন মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। তাঁদের সকলেরই বক্তব্য ছিল, সংসদে তৃণমূল একমাত্র দল, যাদের মহিলা সদস্যদের সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি। তাই তারা ৫০ শতাংশের দাবি জানাচ্ছে। বাংলার শাসকদলের দাবি, মোদী সরকারের উদ্দেশ্য মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করা নয়। বরং বিষয়টি নিয়ে রাজনীতিই তাদের লক্ষ্য। সেই কারণেই আসন পুনর্বিন্যাস করে মহিলা সংরক্ষণ করতে চাইছে বিজেপি।
বাঁকুড়ার সভায় অনুপ্রবেশ নিয়ে আবার তৃণমূলকে বিঁধেছেন মোদী। বলেছেন, ‘তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের সুবিধা করে দিতে সব আইনকানুন শেষ করে দিচ্ছে। ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দিতে চায় ওরা। সংবিধানকে নষ্ট করে দিচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীদের কথা শোনে, কুড়মিদের কথা শোনে না। এ বার তৃণমূলকে সাজা দিতে হবে।’ তৃণমূল আদিবাসী বিরোধী বলেও দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আদিবাসী মা-বোনেদের ঘৃণা করে তৃণমূল। আমাদের আমলে আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। রাষ্ট্রপতি যখন বাংলায় এসেছিলেন, তৃণমূল কী ভাবে তাঁকে অপমান করেছিল, তা গোটা দেশ দেখেছে।’