• ‘পরের বার সংসদে বলার সাহস দেখান’, জাতির উদ্দেশে ভাষণ নিয়ে মোদীকে তোপ মমতার
    এই সময় | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ‘পরের বার যখন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন, তা সংসদকক্ষ থেকে দেওয়ার সাহস দেখান’— প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এ ভাবেই বিঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রবিবার এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করেন মমতা। প্রধানমন্ত্রীর শনিবারের ভাষণ দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা বলে তোপ দাগেন তিনি। প্রশ্ন তোলেন, বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে।

    মমতা লেখেন, ‘পরের বার যখন আপনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন, তখন সংসদকক্ষ থেকে বলার সাহস দেখান। যেখানে আপনাকে জবাবদিহি, প্রশ্ন এবং সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। আপনি গতকাল যা করেছেন, তা ভীরুতা, ভণ্ডামি এবং দ্বিচারিতা। আসলে আপনি দেখছেন, ক্ষমতা আপনার হাতছাড়া হচ্ছে। আর তা ধরে রাখতে আপনি যে কোনও পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত।’

    শুক্রবার মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত তিনটি সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে পাশ করাতে ব্যর্থ হয় মোদী সরকার। শনিবার দুপুরে জানা যায়, রাত সাড়ে ৮টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নির্ধারিত সময়েই ভাষণ শুরু করেন তিনি। যার শুরু থেকে শেষ ছিল সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়েই।

    প্রথম থেকেই এই বিল পাশ না করাতে পারার জন্য তৃণমূল, কংগ্রেস-সহ গোটা বিরোধী শিবিরকে কাঠগড়ায় তোলেন নরেন্দ্র মোদী। ‘দেশের মা-বোনদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী’ প্রধানমন্ত্রী এই বিল পাশ করাতে না পারাকে ‘ভ্রূণহত্যার সমতুল পাপ’ বলে ব্যাখ্যা করেন। মোদীর এই বক্তব্য নিয়ে শনিবার রাত থেকেই প্রশ্ন তোলে বিরোধীরা। বিশেষ করে পাঁচ রাজ্যের ভোটের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী এ ভাবে সরকারি প্রচার মাধ্যমে ‘জাতির উদ্দেশে’ আদৌ ভাষণ দিতে পারেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে, বাংলা এবং তামিলনাড়ুতে যখন আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ, সেখানে এ ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য রাখা যায় কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিরোধী শিবির।

    এ দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স পোস্টে লেখেন, ‘যদি এই সরকার সত্যিই এই মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আন্তরিক হতো, তা হলে ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩-এ নারীদের সংরক্ষণ বিল পাশ হওয়ার পরে প্রায় তিন বছর অপেক্ষা করল কেন? একাধিক রাজ্যে নির্বাচন চলাকালীন হঠাৎ তাড়াহুড়ো করে এটি আনা হলো কেন? কেন এর সঙ্গে ডিলিমিটেশন জুড়ে দেওয়া হলো? তৃণমূল অতীতেও নারীদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, আগামীতেও দাঁড়াবে। কিন্তু যে শাসকদল এই বিষয়টি বোঝে না বা সম্মান করে না, তাদের কাছ থেকে আমরা এ বিষয়ে কোনও উপদেশ নেব না।’

    তৃণমূল বার বার ডিলিমিটেশনের বিরোধিতা করেছে, এ দিন তা-ও স্পষ্ট করেন মমতা। তাঁর দাবি, মহিলাদের ঢাল করে মোদী সরকার রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির চেষ্টা করছে। তৃণমূল বাবাসাহেব আম্বেদকরের সংবিধান পরিবর্তনের বিরোধী, দেশকে বিভক্ত করার এবং নির্বাচনী সীমানা বদলে গ্যারিমান্ডারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের বিরোধী। এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের উপরে আঘাত, তৃণমূল চুপচাপ তা হতে দেবে না।

  • Link to this news (এই সময়)