• স্ত্রীর উপর সন্দেহ, ২ মেয়েকে খুন করে আত্মসমর্পণ বাবার
    এই সময় | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • দুই মেয়েকে গলা কেটে খুনের অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে রবিবার ভোরে। সূত্রের খবর, খুনের পরে অভিযুক্ত নিজেই পুলিশকে ফোন করে পুরো বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তারা রক্তাক্ত অবস্থায় দুই নাবালিকার দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক দু'জনকেই মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।

    সূত্রের খবর, অভিযুক্তের নাম শশী রঞ্জন মিশ্র এবং পেশায় মেডিক্যাল রিপ্রেজ়েন্টেটিভ। শশী রঞ্জন বিহারের বাসিন্দা হলেও কানপুরের একটি ফ্ল্যাটে সপরিবারে থাকত। অভিযুক্তের পরিবারে স্ত্রী রেশমা, যমজ মেয়ে ঋদ্ধি (১১) ও সিদ্ধি (১১) এবং একটি ছয় বছরের ছেলে ছিল। রেশমা পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। ২০১৪ সালে রেশমার সঙ্গে বিয়ে হয় শশীর।

    রেশমার অভিযোগ, স্বামী সব সময় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করত তাঁকে। সেই কারণে ঘরের ভিতর একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরাও লাগিয়ে রেখেছিল। রেশমা আরও জানিয়েছেন, শশী তাঁকে দুই মেয়ের ঘরের ভিতরেও ঢুকতে দিত না। শশী প্রায়ই বলত রেশমা যেন ছেলেকে নিয়ে আলাদা থাকেন। শশী একাই দুই মেয়ের দায়িত্ব নেবে।

    পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাতের শশী দুই মেয়েকে নিয়ে ঘুমোতে যায়। রাত আড়াইটে নাগাদ সে এক মেয়েকে বাথরুমে নিয়ে যায়। তার পর ঘরে ফিরে আলো নিভিয়ে শুয়ে পড়ে। এর পরে ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ শশী নিজেই ফোন করে পুলিশকে খুনের খবর দেয়।

    খবর পেয়ে কানপুর পুলিশ শশীর ফ্ল্যাটে পৌঁছয়। শশী সেই সময় ফ্ল্যাটেই ছিল। ডিসিপি দীপেন্দ্রনাথ চৌধুরী জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, স্ত্রীর উপর সন্দেহের জেরেই এই নৃশংস কাজ করে থাকতে পারে শশী। তবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বাকি দিকগুলিও। পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতদেহ দু'টি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। সঙ্গে ঘটনার যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)