ভোট এলেই ED, CBI, NIA-এর মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে কাজে লাগানো শুরু করে বিজেপি, রবিবার হুগলির তারকেশ্বরের সভা থেকে ফের এই অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর ইনকাম ট্যাক্সের কাজ দেখভাল করেন যিনি, তাঁর বাড়িতেও ইডি রেইড করেছে বলে দাবি করেন মমতা। রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমারের বাড়িতে রেইড নিয়েও সওয়াল করেন তিনি। বলেন, ‘প্রত্যেকটায় কেস হবে, ছেড়ে কথা বলার লোক আমরা নই’। একই সঙ্গে নাম না করে I-PAC প্রসঙ্গও তোলেন মমতা। বলেন, ‘আমি একটি ছেলেকেও চাকরি ছাড়া করব না। সকালে অভিষেকের সঙ্গে কথা বলেই এসেছি।’
আইপ্যাক দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের পরমার্শদাতা সংস্থা হিসেবে কাজ করে। রবিবার সকালে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়, ভোটের বাংলায় I-PAC কাজ বন্ধ করছে। তৃণমূল যা ‘ভুয়ো’ বলে দাবি করেছে। এর পরেই এ দিন তারকেশ্বরের সভা থেকে মমতা বলেন, ‘যারা আমাদের পার্টির কাজ করে, এজেন্সিগুলোকে বলছে বাংলা ছেড়ে চলে যাও। কেন? তোমাদের ৫০টা এজেন্সি কাছে। আমাদের ক্ষমতা নেই। আমাদের একটা আছে। ওদের ভয় দেখালে ওরা আমার দলের সঙ্গে যুক্ত হবে। আমরা ওদের চাকরি দেবো। এটা মাথায় রেখে দিও।’
এ দিন মমতা অভিযোগ তোলেন, তাঁর সিকিউরিটি যিনি দেখেন, তাঁর বাড়িতেও সকাল থেকে রেইড চলছে। মমতার প্রশ্ন, ‘তার মানে আমাকে কি খুন করতে চান? আমাকে খুন করলে যদি বাংলা পান, চেষ্টা করে দেখুন না। সিপিএমের আমলেও বহুবার আমাকে মারার চেষ্টা করা হয়েছে। পচা সিপিএমগুলো এখন বিজেপিতে।’
একই সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিল নিয়েও এ দিন তারকেশ্বর থেকে সরব হন মমতা। ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর যে বিল ৪৫০ ভোট পেয়ে পাশ হয়ে গিয়েছে, তা আর কতবার পাশ করাতে হবে সে প্রশ্ন তোলেন। কেন এতদিনেও ওই সংরক্ষণ কার্যকর করা গেল না? প্রশ্ন তোলেন মমতা।
মমতা বলেন, ‘নিজেরা হারবে জেনে ৫৪৩টি সিটের জায়গায় সাড়ে ৮০০র বেশি সিট করার পরিকল্পনা করেছিল। গতকাল দূরদর্শনে ভাষণ দিয়ে মিথ্যা কথা বলেছেন। রাজ্যে ভোট চলছে, আপনি কী ভাবে অবৈধ ভাবে পলিটিক্যাল ক্যাম্পেন করছেন? আমরা ধিক্কার জানাই। আমরা অভিযোগও জানাব।’