• বাবার জুতোয় পা গলিয়ে জিতবেন ছেলে? চাকদহে ‘শঙ্কর’ ফ্যাক্টর, কী বলছে BJP?
    এই সময় | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • নদিয়া জেলার দক্ষিণ অংশে ভাগীরথী-হুগলি নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত চাকদহ বিধানসভা এলাকা। রাজ্যে পালাবদলের পরে এই আসন তৃণমূলের দখলে এলেও গতবার এই আসনটি নিজেদের দখল নেয় বিজেপি। তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম– তিন দলের তরফেই প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়নি। বহু যুদ্ধের নায়ক কংগ্রেসের প্রবীণ নেতার পুত্র যীশু সিংকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্য দিকে, বিজেপির প্রার্থী বিদায়ী বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ। সিপিএম প্রার্থী হয়েছেন নারায়ণ দাশগুপ্ত। কোন ফ্যাক্টর রয়েছে এই আসনে? খোঁজ নিয়ে দেখল এই সময় অনলাইন।

    গত বিধানসভা নির্বাচনে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে বিপর্যয় ঘটেছিল তৃণমূলের। ১২ হাজার ভোটে হারতে হয়েছিল তৃণমূল প্রার্থী শুভঙ্কর সিং ওরফে যীশুকে। এ বার সেই বাঁধা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গিয়েছে বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের। জোর দেওয়া হচ্ছে প্রচারে। তবে এই কেন্দ্র থেকে SIR-এ নাম বাদ গিয়েছে ১০,৭৫১ জনের। সেটাও ভাবাচ্ছে শাসকদলকে।

    বাবা শঙ্কর সিং কংগ্রেস আমলের দাপুটে নেতা হিসেবেই পরিচিত। আজও গোটা চাকদহ এলাকায় যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে তাঁর। নিজে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও তিনি রানাঘাট সাংগঠনিক তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান। চাকদহর প্রতিটি এলাকা হাতের তালুর মতো চেনা। শঙ্কর সিংয়ের গোটা পরিবার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। যীশু তৃণমূল প্রার্থী। আর তাঁর স্ত্রী সুচিস্মিতা নদিয়া জেলা পরিষদের সদস্যা। স্বামীর হয়ে প্রতিদিন তাঁকেও প্রচারে দেখা যাচ্ছে।

    শুভঙ্কর বলেন, ‘বাবার ব্যক্তিগত একটা ইমেজ রয়েছে সেটা তো অস্বীকার করা যায় না। বাবা নির্বাচনের প্রচারে নামাটা একটা বড় প্লাস পয়েন্ট। আর প্রতিপক্ষ নিয়ে বলতে গেলে, গত পাঁচ বছরে চাকদহর মানুষ বিধায়ককে পায়নি। তিনি শুধু শুভেন্দুর সঙ্গে ঘুরে বেড়িয়েছেন। চাকদহর উন্নয়নে উনি কোনও কাজে লাগেনি। এটা আমার কথা নয়, চাকদহবাসীর কথা। তাই এ বার চাকদহয় পরিবর্তন হচ্ছে সেটা ১০০% নিশ্চিত।’

    তবে, তৃণমূলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি। বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষের বক্তব্য, ‘অতীতের সমস্ত ঘটনা চাকদহর মানুষ জানেন। অশান্ত চাকদহয় এখন শান্তি বিরাজ করছে। চাকদহর মানুষ বিধায়ককে কাছে পেয়েছে বা না পেয়েছে, সেটা মানুষের কাছে গেলেই বোঝা যাবে। বিগত দিনে মানুষ যে ভাবে শুভঙ্কর সিংকে হারিয়েছিল, ঠিক সে ভাবেই এ বারেও হারাবে। বিজেপির জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা।

  • Link to this news (এই সময়)