• কীর্ণাহারে বিজেপি নেতা মাইক্রো অবজার্ভার! তৃণমূলের অভিযোগে পদক্ষেপ কমিশনের
    প্রতিদিন | ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • প্রথম দফার ভোটের বাকি কয়েকটা দিন! তার আগেই মাইক্রো অবজারভার ইস্যুতে ক্রমশ চড়ছে উত্তাপ। অভিযোগ-প্রতি অভিযোগে সরগরম নানুরের কীর্ণাহার। ‘বিজেপি নেতা’কে মাইক্রো অবজারভার করা নিয়ে উত্তেজনা। অবশেষে তৃণমূলের অভিযোগে নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন। রাতারাতি ওই দায়িত্ব থেকে সরানো হয় ওই মাইক্রো অবজারভারকে। আর এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা। শুধু তাই নয়, ঘটনায় সরব হয়েছে শাসকদল তৃণমূল। যদিও বিজেপি যোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ওই মাইক্রো অবজারভার।

    জানা যায়, শনিবার নানুর বিধানসভার কীর্ণাহারে মাইক্রো অবজারভার অজয় সাহা নামে এক ব্যক্তি ভোট সংগ্রহ করছিলেন। তৃণমূলের অভিযোগ, ওই ভোট কর্মী কীর্ণাহার এলাকার পরিচিত বিজেপি নেতা। তাঁকে ১৪৯ নম্বর বুথে ‘অ্যাবসেন্টি ভোটারদের’ ভোট সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূলের তরফে আপত্তি জানানো হয়েছে। ঘটনার জেরে কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায় ওই কেন্দ্রের ভোট সংগ্রহের কাজ।

    ঘটনায় কীর্ণাহার অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের এক কর্মী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, “একজন বিজেপি নেতাকে কীভাবে মাইক্রো অবজারভার করা হল, তা নিয়েই আমাদের আপত্তি। তিনি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ ছিল বলেই আমরা কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।” এই ঘটনায় তৃণমূল নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জানায়। অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অজয় সাহাকে ওই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য এক মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ করে। এরপর পুনরায় ভোট সংগ্রহের কাজ শুরু হয়।

    অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অজয় সাহা। তিনি জানান, “এলআইসির একজন ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসাবে মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ করেছে কমিশন। দীর্ঘ ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছি। কোনও রাজনৈতিক পদে নেই। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।” বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, “অজয় সাহা পূর্বেও একাধিক নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন হঠাৎ করে তাঁকে বিজেপি নেতা বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ অনেক শিক্ষক-কর্মচারীও নির্বাচনী কাজে যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধেও আমরা কমিশনকে জানাবো। বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কোনও লাভ হবে না।” তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে কীর্ণাহার এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায় এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)