পানিহাটির এইচবি টাউন মোড়। রবিবাসরীয় প্রচারে থিকথিকে ভিড়। গাড়ির মাথায় উঠে নির্বাচনী ভাষণে এই কেন্দ্রের তৃণমূল কর্মী, সমর্থকদের জন্য লক্ষ্মণরেখা টেনে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী আরজি করের নির্যাতিতার মা। রাজনৈতিক ভাবে বিজেপিকে তুলোধোনা করা হলেও এই কেন্দ্রের প্রার্থীকে যেন শালীনতার বাইরে গিয়ে আক্রমণ করা না হয়, সেই বার্তা দেন অভিষেক।
তৃণমূল সাংসদের বক্তব্য, ‘আমি সকলকে অনুরোধ করব, বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক-সৈনিক যাঁরা, বিজেপির যিনি প্রার্থী হয়েছেন, আমার হাতজোড় করে আবেদন, কেউ শালীনতার বাইরে গিয়ে ভদ্রমহিলাকে আক্রমণ করবেন না। আমাদের দল এটা শেখায়নি।’
আরজি করে ঘটনার পরে রাজ্যব্যাপী বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন সাধারণ মানুষ। পাড়ায় পাড়ায় রাতদখল করেন মহিলারা। সেই আন্দোলনকে সম্মান জানিয়ে অভিষেক বলেন, ‘সাধারণ মানুষ বলেছিল, আমরা আরজি করে সঙ্গে যুক্ত হত্যাকারীদের বিচার চাই। সাধারণ মানুষের দাবি ছিল, যাঁরা দোষী তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। আর বিজেপির দাবি ছিল, মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ। বিজেপি কোনওদিন দোষীদের শাস্তি চায়নি। বিজেপি আজকে যে ভাবে এই ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতি করেছে, আমরা দৃঢ় বিশ্বাস পানিহাটির মানুষ এর জবাব দেবে।’
আরজি করে ঘটনার পরে ধর্ষণের ঘটনার দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিধানসভায় ‘অপরাজিতা বিল’ পাশ করিয়েছিল তৃণমূল সরকার। সেই বিল বর্তমানে অনুমোদনের জন্য রাষ্ট্রপতির হাতে রয়েছে। বিজেপি প্রার্থীর উদ্দেশে অভিষেক বলেন, ‘শুধু এতটুকু অনুরোধ, হাতজোড় করে বলছি, অভয়ার ঘটনা যাতে বাংলায় না ঘটে, সরকার ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অপরাজিতা বিল এনেছে। রাজ্য সরকার সেই বিল রাজ্যপালের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে দেড় বছর আগে পাঠিয়েছে। আমার আবেদন, আপনারা যদি সত্যিই চান, এরকম ঘটনা বাংলায় না হয়, তা হলে দয়া করে প্রধানমন্ত্রীকে বলবেন, রাষ্ট্রপতিকে বলে সেই বিলে সম্মতি দিতে। আমরা এটা নিয়ে রাজনীতি করি না। আমরা মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করি না।’
প্রার্থীর নাম ঘোষণা হওয়ার পরেই পানিহাটি জুড়ে প্রচার শুরু করেছেন বিজেপি প্রার্থী। সে রকমই একটি প্রচার সভায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কিছু তির্যক মন্তব্য করতে শোনা যায় পানিহাটির বিজেপি প্রার্থীকে। সেই মন্তব্যের পাল্টা যেন বিজেপি প্রার্থীকে অসম্মান না করা হয়, সেই বিষয়ে সাবধানবাণী অভিষেকের। তাঁর কথায়, ‘তৃণমূলের সৈনিকদের বলব, কোনও অপশব্দ তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবহার করবেন না। তিনি তাঁর সন্তানকে, কন্যাকে হারিয়েছেন। মানুষ দুঃখে, কষ্টে চাপে পড়ে অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। আমরা প্রত্যেকটা মহিলাকে সম্মান করি। এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলা। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী মহিলা, শিল্পমন্ত্রী মহিলা। শেষ যিনি মুখ্যসচিব তিনি মহিলা, এখন যিনি স্বরাষ্ট্রসচিব তিনি মহিলা। মহিলাদের সম্মান নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে লড়াই করেছেন, আর কেউ ভারতবর্ষে তা করেননি।