রঞ্জন মাইতি
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভা। এ বারের ভোটে জেলার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কেন্দ্র এটি। এই কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন ফিরোজা বিবি। নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলন করতে গিয়ে গুলিতে নিহত হয়েছিল ছেলে। সেই থেকে ‘শহিদ মাতা’ হিসেবে পরিচিতি তাঁর। এ বার তৃণমূল তাঁকে টিকিট দেয়নি। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের প্রাক্তন কর্মাধ্যক্ষ সিরাজ খানকে প্রার্থী করেছে দল। অন্য দিকে, বিজেপির প্রার্থী পাঁশকুড়া পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলার সিন্টু সেনাপতি। লড়াই এ বার হাড্ডাহাড্ডি।
তৃণমূলের সিরাজ খানের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার পর, প্রথম দিকে দলীয় কর্মীদের থেকে সহযোগিতা পাচ্ছিলেন না, এমন একটা অভিযোগ উঠছিল। সিরাজের বাড়ি মেচেদায়। পাঁশকুড়া পশ্চিমের প্রার্থী করায় দলের কর্মীদের একাংশ তাঁকে বহিরাগত বলতেও শুরু করেছিল। যদিও ৩০ মার্চ দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করার পরে অক্সিজেন পান প্রার্থী। দলের সকলে একসঙ্গে প্রচারের ময়দানে ঝাঁপিয়েছেন। এখন জোর প্রচারে তিনি।
অন্য দিকে, পাঁশকুড়া পশ্চিম থেকে ২০২১ সালেও ভোটে লড়েছিলেন সিন্টু সেনাপতি। তৃণমূলের ফিরোজা বিবির কাছে ৮৮৮৯ ভোটে হেরে যান। তবে সংগঠনের কাজে সব সময়েই থেকেছেন সিন্টু। পাঁশকুড়া পুর এলাকার বাসিন্দা সিন্টু ২০১৭ সালে পুরভোটে জিতে কাউন্সিলারও হয়েছিলেন। বিজেপি বলছে, পাঁশকুড়া পশ্চিমে এ বারের লড়াই বহিরাগত বনাম ভূমিপুত্রের।
২০২১ সালে ফিরোজা বিবি পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ১১ হাজার ৭০৫ ভোট। বিজেপি প্রার্থী সিন্টু সেনাপতির ঝুলিতে ছিল ১ লক্ষ ২ হাজার ৮১৬টি ভোট। এ বার বিজেপি পুরোনো প্রার্থীতে ভরসা রাখলেও, তৃণমূল ফিরোজা বিবিকে টিকিট দেয়নি। যে ফিরোজা বিবি ২০০৯ (উপনির্বাচন) ও ২০১১ সালে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকেও জেতেন। অর্থাৎ টানা চার বারের বিধায়ক ছিলেন তিনি। এ দিন দুঃখও প্রকাশ করেন ফিরোজা। জানান, ‘দুঃসময়ে’ দলের কাজ করেছেন। এখন ‘সুসময়’। দল তাই মনে রাখেনি তাঁকে।
যদিও এখন ভোটের ময়দানে যুযুধান সব পক্ষ। তৃণমূল প্রার্থী সিরাজ খান ‘রেকর্ড জয়’-এর লক্ষ্যে প্রচার চালাচ্ছেন। বিজেপির প্রার্থী সিন্টু সেনাপতির বক্তব্য, ‘ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ২০২১ সালে তৃণমূল জয়লাভ করেছে। এ বার ভোট হবে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে। ফলে, ভোটারদের ভয় দেখানো, ভোট লুট এ বার আর হবে না। গোটা রাজ্যের সঙ্গে পাঁশকুড়া পশ্চিমের ফলাফলেও পরিবর্তন ঘটবে।’
পাঁশকুড়া পশ্চিম মূলত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা। এখানে দুই ফুলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। তার মধ্যে আবার ঢুকে রয়েছে ISF ও AJUP। একটি নওশাদ সিদ্দিকির দল, অন্যটি হুমায়ুন কবীরের। তারা কতটা ভোট কাটবে, সে দিকে নজর রাজনৈতিক মহলের।