আর ১ সপ্তাহও বাকি নেই নির্বাচনের। তার আগেই ভোটারদের নির্দিষ্ট দলকে ভোট দিতে বলা নিয়ে বিতর্কে জড়ালেন মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা-২ ব্লকের রানিতলা থানার বিএলও। বালিজানা বুথের বিএলও হাসানুজ্জামান রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি নির্বাচনের স্লিপ বিলি করতে গিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করেন। সরকারি কর্মী হিসেবে যা তিনি করতে পারেন না। ভোটারদের প্রভাবিত করার ওই ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ওই বিএলও ভোটারদের উদ্দেশে বলছেন ‘এই ভোট মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদীর লড়াই। অন্য কাউকে ভোট দিয়ে লাভ নেই।’ সেই সঙ্গে কংগ্রেস ও সিপিএমকে ‘শূন্য’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, ভগবানগোলা বিধানসভায় (৬২ নম্বর) চতুর্থ বোতাম টিপে তৃণমূল প্রার্থী রেয়াত হোসেন সরকারকে ভোট দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মাঠে নেমে পড়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও। ভগবানগোলা বিধানসভার কংগ্রেস প্রার্থী অঞ্জু বেগম বলেন, ‘ওই ভিডিয়ো-সহ আমি নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। কমিশনের উচিত পদক্ষেপ করা।’
সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী মাহমুদাল হাসান বলেন, ‘ভোটকর্মী হিসেবে তিনি এই কাজ করতে পারেন না। ওই বিএলও-র বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি। কমিশনের লোক হয়ে একটা বুথে দাঁড়িয়ে শাসকদলের হয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য তাঁকে কাজ থেকে বরখাস্ত করা উচিত।’
ওই আসনের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন কবীর জানান, ‘ভোটকর্মী যদি এ ভাবে সরাসরি তৃণমূলের হয়ে ভোট করার কথা বলেন, তা হলে কমিশনের কাজ প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা। তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত।’
অন্য দিকে,শাসক দলের তরফে এই ঘটনায় কী জানানো হয়েছে? ‘ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী রেয়াত হোসেন সরকার জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনও যোগ নেই। বিষয়টি প্রশাসন খতিয়ে দেখুক।’
এ বিষয়ে হাসানুজ্জামানকে ফোন করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। বিরোধী প্রার্থীদের দাবি, প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। এর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। এখন দেখার বিষয় এই যে, অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করে নির্বাচন কমিশন। লালবাগের মহকুমাশাসক পূজা মিনা বলেন, ‘আমি এমসিসি টিমকে বলছি ওই অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁকে কাজ থেকে বরখাস্ত করা হবে।’