বুদ্ধদেব বেরা
কয়েক ঘণ্টা আগে দেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর দোকানে এসে ঝালমুড়ি খেয়ে গিয়েছেন। এরই মধ্যে ঝাড়গ্রাম শহরের মশলামুড়ি বিক্রেতা বিক্রমকুমার সাউ হয়ে উঠেছেন সেলেব্রিটি। দোকানে ভিড় করছেন এলাকার লোকজন। বার বার তাঁর বাবা, মায়ের কাছেও ফোন আসছে। শুনতে চাইছেন, সেই মুহূর্তে ঠিক কী কী হলো। শুধু বিক্রমের কাছেই নয়, ফোন আসছে তাঁর পরিবারের লোকজনের কাছেও।
রবিবার ঝাড়গ্রামে সভা করতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখান থেকে ফেরার পথে ঝালমুড়ি খান বিক্রমের দোকানে। নিজেই সমাজমাধ্যমে সেই ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। সেই ছবি সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তে ভাইরাল বিক্রম। ঝাড়গ্রাম শহরেই বিক্রমের ঝালমুড়ির দোকান। ঝাড়গ্রাম শহরে স্টেশনপাড়ায় বিক্রমের বাড়ি। তিনি জানিয়েছেন, ১২ বছর ধরে ঝালমুড়ি, ছোলা ভাজা, বাদাম ভাজা, চাল ভাজা বিক্রি করেন তিনি। প্রথমে ঠেলা গাড়ি নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেও পরে শহরের কলেজ মোড়ে একটি ছোট্ট গুমটি ঘর ভাড়া নিয়ে ঝালমুড়ির দোকান করেন।
রাস্তা সম্প্রসারণের সময়ে রাস্তার পাশে থাকা সমস্ত দোকান ভাঙা পড়লে বন্ধ হয়ে যায় তাঁর ঝালমুড়ির দোকান। পরে ঝাড়গ্রামের এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফেরার সময়ে পুনর্বাসনের আবেদন জানান দোকানদাররা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে অন্যান্য দোকানদারের পাশাপাশি ভাড়া দোকানের পরিবর্তে রাস্তার পাশেই নিজের স্থায়ী দোকান পান বিক্রম। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে দোকান করার জন্য জায়গার পাশে দোকান দেওয়া হয়। মোট ৫৪ জন পান দোকান। তারই মধ্যে রয়েছেন বিক্রমও।
বিক্রম বলেন, ‘আমার দোকানে মোদীজি আসার ১৫ মিনিট আগে থেকেই তাঁর সিকিউরিটি এখানে ঘোরাফেরা করছিলেন। তবে আমার দোকানে আসবেন, আমি বুঝতে পারিনি। আমাকে এসে যখন জিজ্ঞাসা করলেন ঝালমুড়ি আছে কি না, আমি যে কী বলব বুঝতে পারছিলাম না। ১০ টাকার মুড়ি কিনলেন তিনি। আমি টাকা নিতে চাইনি। তিনি জোর করে দিলেন।’
সদ্য সদ্য মোদী মুড়ি খেয়ে যাওয়ার পরে লোকজন এখন বিক্রমের দোকান দেখতে আসছেন, তাঁকে দেখতে আসছেন। যাঁরা সকাল সন্ধে তাঁর দোকানের সামনে আড্ডা মারেন, তাঁরাও ঘুরে ঘুরে দেখছেন, মুখে হাসি। এমনকী এলাকার বিজেপি নেতা কর্মীরাও বিক্রমের দোকানে ভিড় করেছেন আজ।