• প্রথম দফার ভোটের দিনেই রাজ্যে প্রচারে নামছেন মোদী-শাহ, গেরুয়া শিবিরের নতুন রণকৌশল
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • বিধানসভা ভোটের প্রথম দফার দিনেই নজিরবিহীন কৌশল নিয়ে মাঠে নামছে গেরুয়া শিবির। আগামী ২৩ এপ্রিল যখন রাজ্যের ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলবে, ঠিক সেই সময় রাজ্যের অন্য প্রান্তে একযোগে প্রচারে নামছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভোট চলাকালীন এই সমান্তরাল প্রচার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

    দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটের দিন বুথমুখী হবেন সাধারণ মানুষ, আর সেই সময়ই রাজ্যের অন্য জেলাগুলিতে জনসভা ও রোড শো করে জনমত নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করবে গেরুয়া শিবির। এই কৌশলের লক্ষ্য, ভোটের বাকি দফাগুলির জন্য আগাম মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তৈরি করা।

    সূচি অনুযায়ী, ২৩ এপ্রিল দুপুরের পর থেকেই একের পর এক কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। প্রথমে তিনি ব্যারাকপুরে জনসভা করবেন। দুপুর দেড়টা নাগাদ সেই সভা শুরু হওয়ার কথা। এরপর সেখান থেকে তিনি যাবেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে, যেখানে বিকেল তিনটে পনেরো মিনিট নাগাদ তাঁর দ্বিতীয় জনসভা নির্ধারিত রয়েছে।

    এই দুই সভা শেষ করে বিকেল পাঁচটা নাগাদ হাওড়ায় একটি বড় রোড শো করবেন প্রধানমন্ত্রী। শিল্পাঞ্চল এবং শহরতলির ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যেই এই জায়গাগুলি বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

    একই দিনে রাজ্যের অন্য প্রান্তে প্রচারে থাকবেন অমিত শাহ। তাঁর প্রথম সভা হবে হুগলি জেলার বলাগড়ে। এরপর আরামবাগের পুরশুড়া অঞ্চলে দ্বিতীয় জনসভা করার কথা রয়েছে। এই দুই এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ, ফলে সেখানে বিশেষ জোর দিচ্ছে গেরুয়া শিবির।

    শুধু সভা নয়, বিকেলের দিকে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামেও রোড শো করবেন অমিত শাহ। দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে এই কর্মসূচিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

    ভোটের দিন প্রচারে সাধারণত কিছু আইনি বিধিনিষেধ থাকে। তবে তা কেবলমাত্র সেই সব কেন্দ্রে প্রযোজ্য, যেখানে ভোটগ্রহণ চলছে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই গেরুয়া শিবির এমন সব এলাকা বেছে নিয়েছে, যেখানে ওই দিন ভোট নেই।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল শুধু প্রচার নয়, বরং ভোটের বাকি দফাগুলির জন্য একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক চাল। ভোটের দিনেই শীর্ষ নেতৃত্বকে মাঠে নামিয়ে কর্মীদের মনোবল বাড়ানো এবং ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার— দুই লক্ষ্যই পূরণ করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

    এখন দেখার, এই কৌশল ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে এবং পরবর্তী দফার ভোটে এর প্রতিফলন কতটা দেখা যায়।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)