প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েও তৃণমূলের প্রচারে দুই নির্দল প্রার্থী! রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদের
প্রতিদিন | ২০ এপ্রিল ২০২৬
নিজেদের প্রচার নয়, প্রতিদ্বন্দ্বীর হয়েই প্রচারে ব্যস্ত দুই নির্দল প্রার্থী। একজন তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি, অন্যজন পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন। তাঁরা দু’জনেই বাসন্তী কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নীলিমা মিস্ত্রি বিশালের হয়ে প্রচার করছেন বলে অভিযোগ বিজেপির। এই নিয়ে শাসকশিবিরকে নিশানা করেছে গেরুয়া শিবির। তাদের দাবি, নির্বাচনের (Bengal Election 2026) আইনের ফাঁক গলে বুথ ও কাউন্টিংয়ের সময় একাধিক এজেন্ট ঢোকানোর জন্য নিজেদের লোককেই নির্দল হিসেবে দাঁড় করিয়েছে তৃণমূল।
বাসন্তী ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের আমঝাড়া অঞ্চলের অঞ্চল সভাপতি পদে রয়েছেন অসীম সর্দার। তিনি বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর প্রতীক চিহ্ন হল ঝুড়ি। ইভিএমের সাত নম্বর বোতামে আছেন তিনি। অন্যদিকে পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ গৌরী নস্করও এই কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর প্রতীক চিহ্ন হল গ্যাস সিলিন্ডার। ইভিএমে ৮ নম্বর বোতামটি তাঁর। বিরোধীদের অভিযোগ, নিজেদের হয়ে একবার প্রচার করতে দেখা যায়নি অসীম ও গৌরীকে। নিজেদের সমর্থনে কোথাও দেওয়াল লিখন, ব্যানার বা পোস্টার কিছুই নেই। উলটে তৃণমূল প্রার্থীর নির্বাচনী সভায় তাঁদের দেখা গিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বীর হয়ে নির্দল প্রার্থীরা প্রচারে নামায় প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।
এ বিষয়ে বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার জানান, ওই দুই নির্দল প্রার্থী তৃণমূলের লোক। তাঁরা নিজেদের এজেন্ট হিসেবে বুথে এবং কাউন্টিংয়ের সময় যাঁদের বসাবেন তাঁরা সকলেই শাসকদলেরই লোক। অর্থাৎ অন্যান্য দলের যদি একজন এজেন্ট থাকেন তাহলে তৃণমূলের থাকবেন তিনজন এজেন্ট। সেই কারণেই পরিকল্পনা করে নির্দল হিসেবে নিজেদের লোককেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল। তাঁরা যদি সত্যিই প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চান, তাহলে দলের সমস্ত পদ থেকে পদত্যাগ করা উচিত ছিল। কেউ কোনও জায়গা থেকে পদত্যাগ করেননি। শুধুমাত্র নির্বাচনের আইনের ফাঁক গলে একাধিক এজেন্ট ঢোকানোর জন্য এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে এই বিষয়ে বাসন্তী কেন্দ্রের নির্দল প্রার্থী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের আমঝাড়া অঞ্চলের সভাপতি অসীম সর্দার কিছু বলতে চাননি। তিনি জানান, “যা জানানোর নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দিয়েছি।” অন্যদিকে পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ গৌরী নস্কর বলেন, “বিজেপি কী অভিযোগ করছে তা ভেবে আমাদের লাভ নেই। যা বলার পরে বলব।”