অভয়ার মাকে ‘শালীনতার বাইরে গিয়ে আক্রমণ নয়’, বিরোধিতা সরিয়ে সৌজন্য অভিষেকের
প্রতিদিন | ২০ এপ্রিল ২০২৬
রাজনীতিতে কুকথা নতুন কিছু নয়। তবে তারই মাঝে ব্যতিক্রমী তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পানিহাটির প্রচার মঞ্চ থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের শালীনতার পাঠ দিলেন তিনি। কোনওভাবেই বিজেপি প্রার্থী অভয়ার মাকে আক্রমণ যেন না করা হয়, সেকথা বললেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)।
তিনি বলেন, “আমি সকলকে অনুরোধ করব, বিজেপির প্রার্থীকে কেউ শালীনতার বাইরে গিয়ে আক্রমণ করবেন না। আমাদের দল এটা শেখায়নি। ভদ্রমহিলা আমার মাতৃসম। তিনি তাঁর সন্তানকে হারিয়েছেন। মানুষ দুঃখে, কষ্টে অনেক সময় চাপে পড়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়।” যদিও বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের দাবি, “আমাকে অনেক আক্রমণ করা হয়ে গিয়েছে। এখন আর এসব বলে লাভ কী।” বলে রাখা ভালো, এর আগে পানিহাটিতে প্রচারে গিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সৌজন্যের বার্তাই দিয়েছিলেন।
এরপর আরজি কর কাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। বলেন, “আর জি করের যে ঘটনা ঘটেছিল, সারা বাংলায় মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছিল। আমরা সেই লড়াইকে সম্মান জানিয়েছি। ৯ই অগাস্টের ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী পরিবারকে বলেছিলেন—পরিবার যা বলবে তাই হবে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতা পুলিশ যাকে অ্যারেস্ট করেছিল, সেই সঞ্জয় রায়কে তার এখনও শাস্তি সিবিআই দিতে পারেনি। প্রায় দেড় বছর ধরে তদন্ত চলছে।” এই প্রসঙ্গেই বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “আমরা এটা নিয়ে রাজনীতি করি না। সাধারণ মানুষের দাবি ছিল দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। আর বিজেপির দাবি ছিল মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ। বিজেপি এই ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতি করেছে, পানিহাটি-সোদপুরের মানুষ এর জবাব দেবে।”
পানিহাটির রাজনৈতিক মঞ্চে ‘অপরাজিতা বিল’কে হাতিয়ার করে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষের সমর্থনে রোড শোর পর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরেই চাপ তৈরির বার্তা দিলেন তিনি। বিজেপির প্রার্থীর উদ্দেশে অভিষেকের সোজাসাপটা আবেদন, “আমি বিজেপির প্রার্থীকে খালি এতটুকু অনুরোধ করব যে, শুনছিলাম আগামী ২৪ তারিখ এখানে প্রধানমন্ত্রী আসবেন। আমাদের আবেদন, আরজি করের মতো ঘটনা যাতে বাংলায় কোথাও না ঘটে, সেই কারণে আমরা ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ‘অপরাজিতা বিল’ এনেছি। রাজ্য সরকার সেই বিল রাজ্যপালের মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রপতিকে দেড় বছর আগে পাঠিয়েছে। আপনি (রত্না দেবনাথ) যদি সত্যিই চান এরকম ঘটনা বাংলায় বা দেশের কোথাও না হোক, তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর সভামঞ্চে বলবেন রাষ্ট্রপতিকে বলে সেই বিলে সম্মতি দিতে, যাতে অপরাজিতা বিল পাশ হয়।” অভিষেক আরও বলেন, “আগামী দিনে পানিহাটির দাবি অপরাজিতা বিল চাই। অপরাজিতা বিল যদি পাশ হয়, কোনো ধর্ষক যদি অভিযুক্ত থাকে এবং এভিডেন্স থাকে, ৫০ দিনের মধ্যে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে। আপনারা বলুন হওয়া উচিত হ্যাঁ কি না?”
ফের বিজেপিকে সরাসরি নিশানা করে তাঁর মন্তব্য, “যে দল বিলকিস বানু হত্যাকারীদের, ধর্ষকদের মঞ্চে ডেকে মালা পরিয়ে বরণ করে, সে কোনোদিন সুবিচার দেবে? অক্টোবর মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলায় এসেছিল, রত্না দেবীর সাথে দেখা করতে গিয়েছিল, দেখা পর্যন্ত করেনি। আমরা ভুলে যাইনি।” বলে রাখা ভালো, পানিহাটি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। ছাব্বিশের ভোটে এই পানিহাটিতে অভয়ার মাকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের মতে, আর জি কর আবেগে শান দিয়ে তৃণমূলকে কুপোকাত করার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। কোন দলের প্রার্থী শেষ হাসি হাসেন, সেটাই এখন দেখার।