• চা বলয়ই ১৬ কেন্দ্রের ভাগ্যবিধাতা, তৃণমূল-বিজেপির শেষবেলার প্রচারে শ্রমিকের মন জিতবে কারা?
    প্রতিদিন | ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • উত্তরের চা বলয় দখলের মরিয়া লড়াই তৃণমূলের। অন্যদিকে, বাগানে গেরুয়া শিবির নিজেদের শক্তি ধরে রাখতে মরিয়া। উত্তরবঙ্গের অন্তত ১৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ের ভাগ্যবিধাতা চা শ্রমিকরা। শেষবেলায় প্রচারে বাগানগুলিতে জোর দিয়েছে দুই শিবিরই। প্রচারে রয়েছেন বামেরাও। পাহাড়, তরাই-ডুয়ার্সের বাগানগুলির শ্রমিকদের একাধিক ইস্যু নিয়ে শেষবেলায় ফের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। ন্যূনতম মজুরি, জমির অধিকার এবং বাগানের উন্নয়নের কথা বিজেপি-তৃণমূল, বামেরা প্রচার করছে।

    আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার মহকুমা ও ধূপগুড়ি ব্লক নিয়ে ডুয়ার্সের চা বলয়। এখানে রয়েছে ১৪৫টি চা বাগান অধ্যুষিত বীরপাড়া-মাদারিহাট, কালচিনি, কুমারগ্রাম, আলিপুরদুয়ার, ফালাকাটা, নাগরাকাটা, মালবাজার। এইসব আসনগুলি পুরোপুরি চা বাগান অধ্যুষিত। এছাড়াও আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, রাজগঞ্জ, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, ফাসিদেওয়া বিধানসভা কেন্দ্রের ফলাফলে নির্ণায়কের ভূমিকা নিয়ে থাকে চা শ্রমিকদের ভোট। এর মধ্যে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি ও ফাসিদেওয়া বিধানসভা তরাই অঞ্চলের। এখানে ছোট-বড় মিলিয়ে অন্তত ৫০টি চা বাগান রয়েছে।

    দার্জিলিং পাহাড়ে জিআই ট্যাগ প্রাপ্ত ৮৭টি চা বাগান রয়েছে। ওই চা বাগানের শ্রমিকেরা তিনটি বিধানসভা আসনের ভাগ্য নির্ধারক। ওই কারণে এবারও নির্বাচনে এখানে অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়েছে চা শ্রমিকদের ভোটাধিকার, ন্যূনতম মজুরি, জমির অধিকার, আবাসন। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে ডুয়ার্স, তরাই এবং দার্জিলিং পাহাড়ে পুরোপুরি চা বাগান নির্ভর ১১টি বিধানসভা আসন ঘরে তুলেছিল গেরুয়া শিবির। যদিও পরবর্তীতে চা বাগানের বুথগুলিতে শক্তিবৃদ্ধি করেছে তৃণমূল।

    অন্তত ভোটের ফল তারই প্রমাণ দিচ্ছে। মাদারিহাট বিধানসভা উপ নির্বাচনে চা বাগানের একশো বুথের মধ্যে ৮১টিতে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের ওই সাফল্য ধরে রাখতে মরিয়া তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি। কুমারগ্রাম, কালচিনি, মাদারিহাট, ফালাকাটা, নাগরাকাটা ও মালবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের চা বাগান এলাকার বুথগুলিতে অনেক আগে থেকেই টানা কর্মসূচি নিয়েছে ওই শ্রমিক সংগঠন। ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রের ৪৮৩টি বুথ রয়েছে। 

    ২০১৯ লোকসভা ভোটের ফলাফলে দেখা গিয়েছে ওই ৪৮৩টি বুথের মধ্যে ১৫টিতে তৃণমূলের জয় এসেছে। কিন্তু ২০২৪ সালে ২৪৪ বুথে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল দেখে তৃণমূল নেতৃত্ব সঠিকভাবেই উপলব্ধি করেছিলেন চা বলয়কে উপেক্ষা করে ডুয়ার্স এবং তরাই এলাকায় বিধানসভা নির্বাচনে ভালো ফলাফল সম্ভব নয়।

    এরপরই সুপরিকল্পিত ভাবে পুরোপুরি বামেদের ধাচে জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের ৭৮টি এবং আলিপুরদুয়ার জেলার ৬৭টি চা বাগানে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের ইউনিট কমিটি গঠন করা হয়। একই কৌশল নেওয়া হয়েছে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের অধীন বিশেষত তরাই এলাকার চা বাগানগুলোতে। ২০২৩ পঞ্চায়েত নির্বাচনে চা বলয়ের ভোটব্যাঙ্ক ফেরাতে ওই ইউনিট কমিটিগুলো সক্রিয় ভূমিকা নিতে গেরুয়া ভোট ব্যাঙ্ক ফাঁকা হয়।

    প্রশ্ন উঠেছে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে (WB Assembly Election 2026) কি সেই ম্যাজিক কার্যকরী হবে! কারণ, রাজনৈতিক মহলের মত, ওই সময়কালে বিজেপি হাত গুটিয়ে বসেছিল এমন ভাবার কিছু নেই। বরং বলা ভালো গড় রক্ষায় শাসক দলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টক্কর দিয়েছে গেরুয়া শিবির। যদিও তৃণমূলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক মৃদুল গোস্বামী বলেন, “তরাই-ডুয়ার্সের চা বলয় এবার ঘাসফুলেই থাকবে।” মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী আনন্দময় বর্মন অবশ্য মনে করছেন, “পঞ্চায়েত নির্বাচনের নিরিখে তৃণমূল নেতৃত্ব যদি হিসেব করতে বসেন ভুল করবেন।” তাঁর অভিযোগ, “পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট হয়নি। হয়েছে লুটপাট। বিধানসভা নির্বাচনে ভোট হবে।” তিনি বলেন, “শুধু চা বলয় কেন। উত্তরবঙ্গে এবার বিজেপির আসন বাড়বে। আমরা সেই টার্গেট নিয়ে লড়ছি।”
  • Link to this news (প্রতিদিন)