মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করার জন্য লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় খারিজ হয়ে যাওয়ার পরে, শনিবার রাতে দূরদর্শন ও আকাশবাণীতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। আর তাঁর এই বক্তৃতা ঘিরেই এখন উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। এটিকে ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক’ এবং Model Code of Conduct বা নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের (ECI) দ্বারস্থ হলো দুই বাম দল— CPI(M) এবং CPI।
এ দিন প্রদান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একটি চিঠি দিয়েছে এই দুই বাম দল। তাদের প্রধান অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুতে বিধানসভা নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি লাগু রয়েছে। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী সরকারি সম্প্রচার মাধ্যমকে ব্যবহার করে বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার চালিয়েছেন।
CPI নেতা সন্তোষ কুমার চিঠিতে দাবি করেছেন, ‘সংসদ টিভি’ এবং ‘দূরদর্শন’-এর মতো সরকারি মঞ্চ ব্যবহার করে আসন্ন নির্বাচনে একটি অসম প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে। কমিশন এই বিষয়ে নীরব থাকলে, তাদের নিরপেক্ষতাই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
এই চিঠি দেওয়ার পাশপাশি, রবিবার কেরলের কোল্লামে CPI(M)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করে এক সাংবাদিক বৈঠক করেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে হারানো সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতেই মহিলা বিলকে ‘ধোঁয়াশা’ হিসেবে ব্যবহার করছে RSS-BJP।
তাঁর মতে, ডিলিমিটেশন বা নির্বাচনী ক্ষেত্রের পুনর্বিন্যাসের আসল উদ্দেশ্য হলো দক্ষিণ ও উত্তর-পূর্ব ভারতকে কোণঠাসা করে BJP-শাসিত অঞ্চলগুলির ক্ষমতা বাড়ানো এবং ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ গড়ার দিকে এগিয়ে যাওয়া।
এ দিন পশ্চিমবঙ্গে বিবাহ প্রথা নিয়ে অমিত শাহের করা মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন বেবি। সম্প্রতি বাংলায় এক নির্বাচনী জনসভায় অমিত শাহ দাবি করেছেন, BJP ক্ষমতায় এলেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালু করা হবে এবং তাতে ‘চারটে করে বিয়ে করা বন্ধ হয়ে যাবে’।ধর্মীয় মেরুকরণের লক্ষ্যেই শাহ এই ‘মিথ্যা ও সাম্প্রদায়িক প্রচার’ চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন এম এ বেবি।
এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শনিবার হুগলির তারকেশ্বরের জনসভা থেকে তিনি এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার’ বলে তোপ দেগেছেন। তৃণমূল নেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, মোদী নিজের দলের জন্য বেআইনি প্রচার চালাচ্ছেন। তৃণমূল কংগ্রেসও এর বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ জানাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে লোকসভায় সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল পাশ না হওয়া এবং তাকে কেন্দ্র করে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার মঞ্চকে প্রধানমন্ত্রীর শুধুই বিরোধীদের আক্রমণ করার জন্য ব্যবহার করার ঘটনাকে হাতিয়ার করে একজোট হচ্ছে বিরোধীরা। এই হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক আবহে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ করে, বা আদৌ কোনও পদক্ষেপ করে কিনা সেটাই এখন দেখার। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের সময়ে, বারংবার প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠলেও কার্যত কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি কমিশন।