• লোকসভার মডেলেই হারানোর চেষ্টা চলছে, বিস্ফোরক দাবি অধীরের
    এই সময় | ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • টানা পাঁচ বার সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল অধীর চৌধুরী। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে হেরে গিয়েছিলেন তিনি। আর তিন দশক পরে তিনি আবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী তিনি। এ বার বহরমপুর আসন থেকে লড়াই করছেন অধীর চৌধুরী। তবে তাঁকে হারানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর দাবি, গত লোকসভা ভোটের মডেলেই হারানোর চেষ্টা করা হচ্ছে তাঁকে।

    নবগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ১৯৯৬ সালে প্রথমবার বিধানসভা ভোটে জয়ী হন । পরবর্তী সময়ে বহরমপুর (Baharampur) কেন্দ্র থেকে সাংসদ হন অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। ১৯৯৯ সাল থেকে টানা ২০২৪ পর্যন্ত সাংসদ ছিলেন তিনি। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ইয়ুসুফ পাঠানের কাছে হেরে যান তিনি। ওই নির্বাচনে ইউসুফ পাঠান পেয়েছিলেন ৫ লাখ ২৪ হাজার ৫১৬টি ভোট। আর অধীর পান ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯৪টি। তৃতীয় স্থানে থাকা বিজেপির প্রার্থী নির্মল সাহার ঝুলিতে যায় ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮৮৫টি ভোট।

    আর এ বারের বিধানাসভা নির্বাচনে ফের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অধীর। বহরমপুর কেন্দ্রে তাঁর লড়াই তৃণমূল কংগ্রেসের নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় এবং বিজেপির সুব্রত মৈত্রের সঙ্গে। এই আসনে সিপিএম (CPIM) কোনও প্রার্থী দেয়নি। তাহলে মানুষ কাকে ভোট দেবে বলে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

    কংগ্রেস প্রার্থী এই আসনে ‘সেটিং’ করেছেন বলে অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। আর এই নিয়েই পাল্টা অভিযোগ করেছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, এখানে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস কেউ কারোর বিরুদ্ধে কিছু বলছে না। রবিবার, বহরমপুরে সাংবাদিক বৈঠকে অধীর বলেন, ‘২০২৪ সালে লোকসভায় যে মডেলে আমাকে হারানো হয়েছিল সেই একই মডেলে এবার বিধানসভায় আমাকে হারানোর চেষ্টা চলছে।’ তবে কারা এই চক্রান্ত করছেন তা নিয়ে খোলসা করে কিছুই বলেননি তিনি।

    এই অভিযোগ করলেও বহরমপুর আসনে জেতার ব্যাপারে আশাবাদী অধীর। রবিবারও তিনি জনসংযোগ করেছেন বহরমপুরে, নিজের পাড়া, গোরাবাজার এলাকায়।

    এরই সঙ্গে এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) কথার সমালোচনাও করেন অধীর। রবিবার, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রাম জেলায় সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনের আগে দুষ্কৃতীরা আত্মসমর্পণ না করলে ৪ মে-র পরে কাউকে ছাড়া হবে না হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। আর অধীর বলেন ‘প্রধানমন্ত্রী ভোটের মুখে বড় বড় বাতেল মারবেন । ভোট হয়ে গেলেই সব থেমে যাবে। আগেও এমন অনেক কথা শুনেছি।’ অধীর নিশানা করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) কেও। আগামী দিনে নিজেকে রক্ষা করতে কংগ্রেসের পা ধরতে হবে মমতাকে বলেও দাবি করেন তিনি।

    এরই সঙ্গে তাঁর দাবি, দিদি এবং মোদী দু'জনেই ধর্মীয় মেরুকরণ করতেই ব্যস্ত। মানুষের মৌলিক সমস্যা নিয়ে তাঁদের মুখে কোনও কথা নেই বলেও মন্তব্য করেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী।

  • Link to this news (এই সময়)