জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে সাপের মতো এঁকেবেঁকে ছুটছে বাইক। তাতে সওয়ার তিন ভাই। হাতে দেশি পিস্তল। প্রকাশ্য দিবালোকে সেই পিস্তল (Pistol) নাচাতে নাচাতে রিলস করছেন তাঁরা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। টাল সামলাতে না পেরে একটি ট্রাকে গিয়ে ধাক্কা (Road Accident) মারে তাঁদের বাইক। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় উপলক্ষ্য কল (১৭), অমরীশ কল (২২) এবং হেমরাজ কলের (১৭)। মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) মৌগঞ্জের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৪ এপ্রিল। তবে রবিবার সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে দেখা যাচ্ছে, দুপুর বেলা ব্যস্ত জাতীয় সড়ক ধরে বাস, ট্রাক যাচ্ছে। আর তার ফাঁক দিয়ে এঁকেবেঁকে ছুটছে একটি বাইক। তাতে বসে রয়েছেন তিন জন। কারও মাথায় হেলমেট নেই। পরনে গেঞ্জি আর প্যান্ট। একদম পিছনে বসে রয়েছেন এক যুবক। তাঁর হাতে একটি দেশি পিস্তল। মাঝে মধ্যেই গুলি চালানোর ভঙ্গিতে পিস্তলটি নাচাচ্ছেন তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন যুবক সম্পর্কে ভাই হন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত রিলস বানান তাঁরা। ওই দিনও বাইকে চড়ে রিলস বানাচ্ছিলেন। অন্য একটি বাইকে তাঁদের ভিডিয়ো করছিলেন প্রশান্ত দ্বিবেদী এবং প্রদীপ দ্বিবেদী নামে দুই যুবক। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ইট বোঝাই ট্রাকের পিছনে গিয়ে ধাক্কা মারে উপলক্ষ্যদের বাইক। সেটা দেখেই ব্রেক কষেন প্রশান্তরা। তাঁদের বাইকও উল্টে যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ধাক্কা মেরে রাস্তায় ছিটকে পড়েন উপলক্ষ্য, অমরীশ এবং হেমরাজ। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা। সেখানেই তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। প্রশান্ত এবং প্রদীপও গুরুতর জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। প্রথমে তাঁদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রেওয়ার সঞ্জয় গান্ধী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মৃত ও আহতরা প্রত্যেকেই বেলা গ্রামের বাসিন্দা।
রিলস বানাতে গিয়েই তিন জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৌগঞ্জ মহকুমার পুলিশ আধিকারিক সাচি পাঠক। তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট তৈরির জন্য তিন যুবক বিপজ্জনক ভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তখনই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’