অনিল সিংহের সঙ্গে বিজেপির (BJP) নাড়ির টান। বীরভূমের নলহাটি কেন্দ্র (Nalhati Constituency) মানেই পদ্মশিবিরের অটোমেটিক চয়েস তিনি। দল তাঁকে সাসপেন্ড করেছে। আবার সাসপেনশন তুলে প্রার্থী করতেও দু’বার ভাবেনি। কোনও বারই অবশ্য জিততে পারেননি অনিল। তার পরেও ছাব্বিশের নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) তাঁর উপরেই ভরসা রেখেছে বিজেপি।
বিজেপি যতই অনিলের উপরে ভরসা করুক না কেন, নলহাটি কিন্তু তৃণমূলের গড়। ২০০৯ থেকে টানা পাঁচটি নির্বাচনে এখানে একচ্ছত্র দাপট দেখিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। ২০১১ সালে অবশ্য কংগ্রেসকে আসনটি ছেড়ে দিয়েছিল তৃণমূল। ২০১৬-এর নির্বাচনে ফের নলহাটির দখল নেন তৃণমূলের মইনুদ্দিন শামস। গত বছর রাজেশ প্রসাদ সিংকে প্রার্থী হন। বিজেপির তাপস কুমার যাদবকে ৫৬ হাজার ৯০৫ ভোটে পরাজিত করেছিলেন তিনি। এ বারও রাজেন্দ্রই তৃণমূলের বাজি।
উন্নয়নে ভর করে ছাব্বিশের ভোট বৈতরণী পার করার ব্যাপারে একশো শতাংশ আত্মবিশ্বাসী তৃণমূলের রাজেন্দ্র। তিনি বলছেন, ‘দিদির উন্নয়ন আমাদের সঙ্গে রয়েছে। তাই আমরা আছি। মানুষও আমাদের দু’হাত তুলে সমর্থন করছেন। জয় আমাদের নিশ্চিত।’
বিজেপির অনিল এবার ম্যাজিক দেখাতে চান। হারের রেকর্ড মুছে দিয়ে জয়ের হাসি হাসতে চান তিনি। তার জন্য নিজের কাজকে হাতিয়ার করছেন অনিল। তিনি ব্যবসায়ী, আবার সমাজসেবীও। অনিলের কথায়, ‘২০০০ সালে বন্যার সময়ে নিজের গ্যাঁটের কড়ি খরচ করে ত্রাণ পাঠিয়েছিলাম। সে সব মানুষ আজও মনে রেখেছেন। আমার টাকা দিয়ে কেনা জমিতে সরকার স্কুল তৈরি করেছে। এখানে আমি মন্দিরও করেছি।’ অনেক পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবিও করেছেন অনিল।
বিজেপি অবশ্য নলহাটিকে হিন্দুদের অধিকার রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছে। বীরভূম বিজেপির জেলা সভাপতি উদয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। সনাতনী ও রাষ্ট্রবাদী মুসলিমদের অধিকার রক্ষার ভোট। আমরা জিতবই।’
নলহাটি কেন্দ্রে এক সময়ে ফরওয়ার্ড ব্লকের রমরমা ছিল। বামফ্রন্টের শরিক দলটি এই কেন্দ্রে ৮ বার জিতেছে। তবে গত দশ বছরে তারা প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে বলেই মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। এ বার দীপক চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে ফরওয়ার্ড ব্লক। স্রোতের বিপরীতে হেঁটে ফের বাম জমানা ফিরবে বলেই আশাবাদী তিনি।