দক্ষিণ দিনাজপুরের (South Dinajpur) কুমারগঞ্জ (Kumarganj Constituency) বরাবরই তৃণমূলের (TMC) শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০১১-এর পর থেকে এই কেন্দ্রে একবারের জন্যও দাঁত ফোটাতে পারেনি বিরোধীরা। তবে এ বারে পরিস্থিতি আলাদা। নেপথ্যে SIR (Special Intensive Revision)। সংখ্যালঘু অধুষ্যিত কুমারগঞ্জে বহু নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ। আর তাতেই জয়ের স্বপ্ন দেখছে বিজেপি।
পরিসংখ্যান বলছে, কুমারগঞ্জে প্রায় ৩৫ শতাংশই সংখ্যালঘু ভোটার। SIR-এর চূড়ান্ত তালিকায় এই কেন্দ্রে ২৯ হাজার ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ ছিল। পরে ধাপে ধাপে প্রায় ২০ হাজারের বেশি নাম বাদ পড়েছে। এই নিয়ে উত্তেজনা রয়েছে কুমারগঞ্জে।
অতীতে কুমারগঞ্জের সংখ্যালঘু ভোটের প্রায় পুরোটাই পেয়ে এসেছে তৃণমূল। তবে এ বারে ভোটার তালিকা বিতর্ক, সংখ্যালঘু ভোটের সমীকরণ এবং ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার জটিল অঙ্কই ফলাফল নির্ধারণ করে দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
২০১১ সালে পরিবর্তনের ভোটে কুমারগঞ্জে জিতেছিলেন মাহমুদা বেগম। যদিও পরের বছর আর তাঁকে প্রার্থী করেনি তৃণমূল। তাঁর জায়গায় টিকিট পান তোরাফ হোসেন মণ্ডল। ২০১৬ এবং ২০২১ পরপর দু’বার এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তিনি। এ বছরও তোরাফের উপরেই ভরসা রেখেছে তৃণমূল। নিজের দশ বছরের কাজই হাতিয়ার তাঁর।
উন্নয়নের কথা বলতে গিয়ে বিধায়ক তহবিলের হিসাব তুলে ধরছেন তোরাফ। তাঁর কথায়, ‘গত পাঁচ বছরে বিধায়ক তহবিলের প্রায় পুরোটাই খরচ করেছি। ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার কাজ হয়েছে। শ্মশানঘাট, যাত্রী প্রতীক্ষালয়, রাস্তা, আলোর ব্যবস্থা, ড্রেন, পানীয় জলের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।’ তবে অনেক কাজ যে এখনও বাকি, তাও অস্বীকার করছেন না তিনি।
তোরাফ জানিয়েছেন, গঙ্গারামপুর ব্লকের প্রাণসাগরে একটি ডিগ্রি কলেজ, গোপালগঞ্জ ও কুমারগঞ্জে কর্মতীর্থ ও অডিটোরিয়াম, হিমঘর ও বড় সেতু নির্মাণের কাজ করতে হবে। গড়ে তুলতে হবে দমকল কেন্দ্র। এই সব না পাওয়া নিয়েই প্রচারে ঝাঁপিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সরকার। তিনি বলেন, ‘কুমারগঞ্জে সবচেয়ে বেশি কাঁচা রাস্তা রয়েছে। কোনও উন্নয়নই হয়নি। বিধায়ক শুধু নিজের উন্নয়ন করেছেন।’
তৃণমূল এবং বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ করেছে সিপিএম প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন। তাঁর দাবি, ৩৪ বছরের বাম জমানাতেই যা উন্নয়ন হয়েছিল, তার পরে সব থমকে গিয়েছে। মোফাজ্জল বলছেন, ‘মানুষ তৃণমূল এবং বিজেপি দু’টি দলকেই দেখেছে। সবাই বীতশ্রদ্ধ। এবার তাই বামেরাই ফিরবে।’