• কেন্দ্রের পোর্টালেই চীনের অংশ অরুণাচলের শহর!
    বর্তমান | ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: চীনের অংশ হয়ে গিয়েছে অরুণাচল প্রদেশের শহর! না, বেজিং নয়। এমন কাণ্ড ঘটেছে খোদ কেন্দ্রীয় সরকারের জনগণনা পোর্টালেই! সেখানে অরুণাচলের পাসিঘাট টাউনকে দেখানো হয়েছে ‘মেডোগ’ শহর হিসাবে। যেটি আদতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারে চীনের একটি শহর। ভারতীয় বায়ুসেনার এক অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকও বিষয়টি নিয়ে প্রথম সরব হন। বিষয়টি সামনে আসতেই সমাজমাধ্যমে ব্যাপক হইচই শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরেই অরুণাচলের বেশ কিছু অঞ্চলকে নিজেদের এলাকা বলে দাবি করে আসছে বেজিং। চীনের মানচিত্রে অরুণাচলের ওই এলাকাগুলিকে জুড়ে দিয়ে নাম বদলে দেওয়ার মতো কাণ্ডও ঘটিয়েছে তারা। এতদিন চীনের দাবির প্রসঙ্গে কড়া নিন্দা জানিয়ে এসেছে কেন্দ্র। অরুণাচল প্রদেশ ভারতেরই অঙ্গ এবং উত্তর-পূর্বের এই রাজ্য নিয়ে চীন যে সব দাবি করে, তার কোনো ভিত্তি নেই বলেও প্রতিবারই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে দিল্লি। কিন্তু এবার কেন্দ্রের পোর্টালে এমন বিভ্রান্তির ফলে চীনের দাবিকেই ‘কার্যত’ মান্যতা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। ভারতের সেনসাস কমিশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন। তাই অমিত শাহের দপ্তরের দিকেও আঙুল তুলেছেন অনেকে। যদিও সমালোচনা শুরু হতেই কেন্দ্রের তরফে তড়িঘড়ি ওই ‘ভুল’ শুধরে নেওয়া হয়েছে। ঘুরিয়ে এই ভুলের জন্য ঘুরিয়ে ‘গুগল ম্যাপ’-কেই দায়ী করেছে রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেনসাস কমিশনারের দপ্তর।

    চলতি মাসেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভারতে জনগণনার প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। তার জন্য বিশেষ পোর্টাল চালু করা হয়েছে। সেখানে ‘সেলফ ইনিউমারেশন’ নামে একটি বিভাগ রাখা হয়েছে। এতে ভারতীয় নাগরিকরা নিজেরাই তথ্য আপলোড করতে পারবেন। সেই কাজের জন্যই বায়ুসেনার প্রাক্তন গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহোন্ত পানগিং পাও ওই পোর্টাল খুলেছিলেন। তিনি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘সেলফ ইনিউমারেশন করতে গিয়ে দেখি মানচিত্রে পূর্ব সিয়াং জেলার পাসিঘাটকে মেডোগ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।’ নাম বিভ্রাটের জেরে নিজের তথ্য আপলোড করতে পারেননি ওই প্রাক্তন বায়ুসেনা আধিকরিক। তিনি আরও লেখেন, ‘মেডোগ চীনের একটি শহর! গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই একজন ভারতীয়। সরকারি পোর্টালেই আমাদের ভূখণ্ড অন্য দেশের হাতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরকে ওই পোস্ট ‘ট্যাগ’ করেন তিনি। বিতর্ক শুরু হতেই রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেনসাস কমিশনারের তরফে এক্সে ভুল স্বীকার করে নেওয়া হয়। দ্রুত বিষয়টি সমাধানও করা হয়। 
  • Link to this news (বর্তমান)