পুর এলাকায় কাজ করছে জোড়াফুলের ৬টি টিম, ওয়ার রুমে নজর চেয়ারম্যানের, ঘাটতি মিটিয়ে শহরে লিডের চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের
বর্তমান | ২০ এপ্রিল ২০২৬
ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: একুশের ভোটে অল্প মার্জিনে জেতা জলপাইগুড়ি আসনে এবার জয়ের ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। এক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি শহরের ভোট ঝুলিতে ঢোকাতে বিশেষ জোর দিয়েছে তারা।
কাউন্সিলার ও দলীয় নেতৃত্বকে নিয়ে গড়ে দেওয়া হয়েছে ৬টি টিম। তারা শহরে চক্কর কাটছে। সুনীতিবালা সদর গার্লস হাইস্কুলের পিছনে খোলা হয়েছে ওয়ার রুম। প্রচার সামলে সেখানে কড়া নজর রাখছেন জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ মাহাত কিংবা প্রাক্তন চেয়ারপার্সন পাপিয়া পাল প্রত্যেকেই নিজেদের ওয়ার্ডে দিনরাত এক করে শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত।
তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নিজেদের ওয়ার্ড থেকে লিড দিতে হবে কাউন্সিলারদের। কোন কাউন্সিলার কত ভোটে প্রার্থীকে এগিয়ে রাখতে পারছেন, সেই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই দলে তাঁর ‘গুরুত্ব’ নির্ধারণ হবে। জলপাইগুড়ি পুরসভায় এখনও চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল গঠন হয়নি। তৃণমূল সূত্রে খবর, এবারের ভোটে কাউন্সিলারদের পারফরম্যান্স দেখে তবেই পুরসভার সিআইসি কারা হবেন, তা ঠিক করবে দলীয় নেতৃত্ব। শুধু তাই নয়, পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হতে আর বছর দেড়েক বাকি। সেক্ষেত্রে আগামী পুরভোটে দলের টিকিট পাওয়ার ক্ষেত্রেও যে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কাউন্সিলারদের পারফরম্যান্স অন্যতম মাপকাঠি হিসাবে বিবেচিত হবে, সেটাও ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ফলে জলপাইগুড়ি পুরসভায় জোড়াফুল শিবিরের ২২ জন কাউন্সিলার নিজের এলাকায় এখন মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে জলপাইগুড়ি শহরে ১৭ হাজারের কিছু বেশি ভোটে পিছিয়ে পড়ে তৃণমূল। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও পুর এলাকায় এবার যাতে কোনোভাবেই খামতি না থাকে, তা নিশ্চিত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ শহরের তৃণমূল নেতাদের।
পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক সৈকত চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমি পুরপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর জলপাইগুড়ি শহরে গত চার মাসে ৪২ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। তাছাড়া, বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি আম্রুত প্রকল্পের পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দিতে পেরেছি আমরা। ফলে এবারের ভোটে শহর থেকে পিছিয়ে থাকার কোনো প্রশ্নই নেই। তাঁর দাবি, দলের কাউন্সিলারদের নিয়ে তিন দফায় বৈঠক করা হয়েছে। ৬টি টিম গড়ে দেওয়া হয়েছে শহরে। ওই টিম বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে। মানুষকে বোঝাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থবারের জন্য সরকার গড়তে চলেছেন। ফলে তাঁর হাত শক্ত করতে তাঁরা যেন তৃণমূলকেই ভোট দেন।
একুশের নির্বাচনে ৯৪১ ভোটে জলপাইগুড়ি আসনটি জিতেছিল তৃণমূল। এবার সেখানে জয়ের মুখ দেখতে মরিয়া বিজেপি। সেক্ষেত্রে জলপাইগুড়ি শহরের ভোট তাদের ঝুলিতে আসবে বলে আত্মবিশ্বাসী গেরুয়া শিবির। বিজেপির জলপাইগুড়ি-১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি মনোজ শাহের দাবি, পুরসভার কাজকর্ম নিয়ে জলপাইগুড়ি শহরের মানুষ তিতিবিরক্ত। এবার ২৫ হাজারের বেশি ভোটে শহর থেকে লিড দেব আমরা।
শহরের ভোটকে পাখির চোখ করে গ্রামে প্রচার সেরে এখন পুর এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ দাস। শহরের বিশিষ্টদের কাছে গিয়ে আশীর্বাদ নিচ্ছেন। প্রাক্তন চেয়ারম্যান মোহন বসুর বাড়িতেও গিয়েছেন। জলপাইগুড়ি পুরসভাকে কর্পোরেশনে উন্নীতকরণ, শহরকে স্মার্ট সিটি করা, করলা নদীর সৌন্দর্যায়ন, শহরের যানজট সমস্যা মেটানো, বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির মতো অঙ্গীকারকে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থী। ময়দানে রয়েছে শহরে দু’টি ওয়ার্ডে দলের কাউন্সিলার থাকা কংগ্রেস এবং একজন কাউন্সিলার নিয়ে সিপিএমও। • নিজস্ব চিত্র।