সন্দীপ বর্মন, মাথাভাঙা: মেখলিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পরেশ চন্দ্র অধিকারী পোড়খাওয়া নেতা। পাড়ায় পাড়ায় বাড়িতে ঢুকে ভোটের প্রচার করছেন তিনি। সেটাই এবার তৃণমূলের অ্যাডভান্টেজ। এছাড়া মেখলিগঞ্জ শহর সহ ব্লকের আটটি গ্রাম পঞ্চায়েতও হাতের তালুর মতো চেনেন তিনি। অপরদিকে বিজেপি প্রার্থী দধিরাম রায় গত কয়েকবারের পরাজিত প্রার্থী। মেখলিগঞ্জের মানুষ বিজেপি প্রার্থীকে যে বার বার প্রত্যাখ্যান করেছে, সেটাও প্রচারে তুলে ধরছে তৃণমূল।
মেখলিগঞ্জ ব্লকের আটটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে জামালদহ, উছলপুকুরি গ্রাম পঞ্চায়েতে গত নির্বাচনগুলিতে এগিয়ে ছিল বিজেপি। যদিও এই দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েতে নিজেদের অনেকটাই গুছিয়ে নিতে পেরেছে তৃণমূল। অপরদিকে মেখলিগঞ্জ শহর বরাবরই পরেশের খাসতালুক। শহর সংলগ্ন নিজতরফ ও বাগডোগরা ফুলকাডাবরি গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষ আপদে বিপদে দিনরাত পরেশের সহায়তা পেয়ে থাকেন। এটাই তৃণমূল প্রার্থীর মাইলেজ।
মেখলিগঞ্জ বিধানসভার মধ্যে রয়েছে হলদিবাড়ি ব্লকের ছ’টি গ্রাম পঞ্চায়েত। হলদিবাড়ি শহরে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও গ্রামীণ এলাকার ভোটে এগিয়ে তৃণমূল। দক্ষিণ বড় হলদিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে রয়েছে মাজার শরিফ। পরেশ বিধায়ক হিসেবে বরাবর মাজার শরিফের অনুষ্ঠান ও মেলার সঙ্গে যুক্ত। সেদিক থেকে গ্রামের ভোট আরও বেশি করে পরেশের দিকে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে দু’টি ব্লক ও দু’টি পুরসভা নিয়ে গঠিত মেখলিগঞ্জ বিধানসভায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করছে তৃণমূল। বিজেপি অবশ্য দাবি করেছে, তাদের প্রার্থীর জয়ে অন্তরায় হবে না তৃণমূলের ভোটব্যাংক বা পরেশের ব্যক্তিগত পরিচিতি।
পরেশ বলেন, প্রতিটি অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। প্রতিটি গ্রামে সারা বছর যাই। মানুষের সঙ্গে থেকে কাজ করি। বিজেপি শুধু প্রতিশ্রুতি দেয়। আমার বিধানসভা জলপাইগুড়ি লোকসভায় রয়েছে। বিজেপির এমপি এলাকায় এসে শুধু নেতাকর্মীদের বাড়িতে খেয়ে চলে যান। দু’বারের এমপি কোনো কাজ করেননি। এবার আরও বেশি ভোটে জিতব।
বিজেপি প্রার্থী দধিরাম রায় বলেন, পরেশবাবু কী কাজ করেছেন, সেটা সবাই জানে। গোটা রাজ্যের মানুষ তাঁকে চেনে। আমরা নতুন করে সেসব কথা বলছি না। তৃণমূলের হিসেব সমস্ত কিছু উল্টে দেবে মানুষ। • নিজস্ব চিত্র।