নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: উত্তরবঙ্গে প্রচারে এসে ‘গুলি চালানো’র হুমকি দিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। রবিবার জলপাইগুড়ির মণ্ডলঘাট মোড় সংলগ্ন নারায়ণপুরে নির্বাচনি জনসভায় তাঁর হুঁশিয়ারি, এখানে নাকি আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কিন্তু আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, বাংলায় যেমন থানা রয়েছে, অসমেও থানা আছে। আমার দিকে একটা গুলি চালানো হলে আমি দু’টো গুলি চালাব। ভোটের ময়দানে তাঁর এ হেন বক্তব্য ঘিরে দানা বেঁধেছে বিতর্ক। কেন আচমকা তিনি গুলি চালানোর প্রসঙ্গ তুললেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জলপাইগুড়ির পাশাপাশি কোচবিহারের তুফানগঞ্জ, আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়া ও মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির শিবমন্দির এলাকায় এদিন সভা করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। সর্বত্রই তাঁর ভাষণে ছিল ধর্মের নামে বিভাজন আর অনুপ্রবেশ তত্ত্বে ভর করে তৃণমূলকে আক্রমণ। বীরপাড়ার সার্কাস ময়দানে সভাস্থল ভরাতে পারেনি বিজেপি। কেন্দ্রের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে উত্তরের চা শ্রমিকরা বারবার বঞ্চনার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। সেই ক্ষতে ‘প্রলেপ’ দিতে এদিন হিমন্ত বিশ্বশর্মার আশ্বাস, বিজেপি ক্ষমতায় এলে চা শ্রমিকদের মজুরি সাড়ে চারশো টাকা হবে। যদিও এনিয়ে তৃণমূল চা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রশ্ন, অসমের চা শ্রমিকরা কি সাড়ে চারশো টাকা মজুরি পান? তুফানগঞ্জের সভা থেকে হিমন্তর দাবি,অসমে এবার বিজেপি সেঞ্চুরি করবে। আর পশ্চিমবঙ্গে ডবল সেঞ্চুরি হবে। এসআইআরের বিরোধিতা পশ্চিমবঙ্গে নয়, বাংলাদেশে হতে পারে বলে মাটিগাড়ার শিবমন্দিরের সভায় মন্তব্য করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে, উত্তরে ভোট পেতে বিজেপি যে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিকে পুরোপুরি মদত দিচ্ছে, এদিন তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে জলপাইগুড়িতে। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থলে আসার আগে বিজেপির মঞ্চে ভাষণ দেন কেএলও প্রধান জীবন সিংহের দলের নেতা। কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিলের সহ সভাপতি লক্ষ্মীকান্ত রায় তাঁর ভাষণে আলাদা রাজ্যের দাবিতে সরব হন। এনিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি জীবন সিংহের গোষ্ঠীর ভোট পেতে বঙ্গভঙ্গের দাবিকে সরাসরি প্রশ্রয় দিচ্ছে বিজেপি? এনিয়ে পদ্ম নেতারা অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছেন।