সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: নির্বাচনি প্রচারে ভিন্ন রাজনৈতিক বার্তা দিলেন গঙ্গারামপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম দাস। রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে রবিবার এক প্রবীণ বিজেপি কর্মীর বাড়িতে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করতে দেখা গেল তাঁকে। যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। রবিবার সকালে গঙ্গারামপুর শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ কর্মসূচি শুরু করেন গৌতম দাস।
এরপর নন্দনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিকইর এলাকাতেও প্রচার চালিয়ে তিনি তপনের একটি সভায় যোগ দেন। গঙ্গারামপুর ব্লক সভাপতি শঙ্কর সরকারের শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রচারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রাক্তন জেলা সভাপতি মৃণাল সরকার। যিনি প্রার্থীর অন্যতম সহযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। জেলা রাজনীতিতে প্রাক্তন দুই সভাপতির একসঙ্গে সক্রিয় ভূমিকা এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। গঙ্গারামপুর ও তপন ব্লককেই লিডের টার্নিং পয়েন্ট দেখছে শাসক শিবির।
অন্যদিকে, রবিবাসরীয় প্রচারে বুনিয়াদপুর শহরকে বেছে নেন হরিরামপুরের তৃণমূল প্রার্থী বিপ্লব মিত্র। হুডখোলা গাড়ির সামনে মহিলা কর্মীদের স্লোগান, আর পিছনে বাইক মিছিল এই পরিচিত প্রচার-ছবিতেই সরগরম হয়ে ওঠে শহরের ১৪টি ওয়ার্ড। সাধারণ মানুষের মধ্যেও উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ অনুযায়ী,হরিরামপুর বিধানসভায় তৃণমূলের লিড থাকলেও কোনো এক অজানা কারণে লোকসভা হোক বা বিধানসভা নির্বাচনে মাইনাসের গেড়ো কাটাতে পারেনি শাসক দল। যা ২০২৬ সালের নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তৃণমূল প্রার্থী বিপ্লব মিত্র বুনিয়াদপুর শহরে নির্বাচনের আগে থেকেই ঘাঁটি গেড়ে পড়ে রয়েছেন। শহরের একাধিক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে পথ মসৃণ করেছেন। বুনিয়াদপুর শহর নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী প্রার্থী বিপ্লব মিত্র। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করেছি। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদী। এদিকে গৌতম দাস বলেন, আমি গোটা গঙ্গারামপুর বিধানসভার মানুষের প্রার্থী। রাজনৈতিক বিভেদ নয়, সকলের কাছেই যাচ্ছি। বিরোধী দলের বাড়িতেও গিয়ে ভোট চাইছি। উন্নয়নের কাজই আমার মূল ভরসা। ভোট প্রচারের ফাঁকে গঙ্গারামপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম দাসকে সংবর্ধনা তৃণমূলের মহিলা ব্রিগেডের। -নিজস্ব চিত্র