সংবাদদাতা, বোলপুর: অন্নপূর্ণা প্রকল্পের ফর্ম ফিল আপ নিয়ে শনিবার রাত প্রায় দশটা নাগাদ বোলপুর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে রামকৃষ্ণ রোড সংলগ্ন এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচনি বিধি জারি হওয়ার পরেও বিজেপি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘অন্নপূর্ণা প্রকল্প’-এর নামে ফর্ম ফিল আপ করাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। পাশাপাশি তাদের দাবি, তৃণমূলের লাগানো পোস্টারের উপর বিজেপির ফেস্টুন লাগানো হয়েছে। একাধিক জায়গায় পোস্টার ছিঁড়ে ফেলাও হয়েছে। তারা নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনি পরিবেশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি।
স্থানীয় কাউন্সিলার সুস্মিতা ভকত বলেন, আমরা বাড়ি বাড়ি প্রচারে বেরিয়েছিলাম। একটি বাড়িতে ঢুকতে গেলে ৫-৬ জন আমাদের বাধা দেয়। পরে অন্য দু’জন মহিলা কর্মীকে পাশের বাড়িতে পাঠালে জানতে পারি বিজেপি কর্মীরা অন্নপূর্ণা প্রকল্পের রেজিস্ট্রেশন ও ফর্ম ফিল আপ করাচ্ছে। আমরা নিজেরা সেই ফর্ম ফিল আপ করাতে দেখেছি এবং সঙ্গে সঙ্গেই আপত্তি জানাই। নির্বাচন বিধি জারি হওয়ার পরে এই ধরনের কাজ করা যায় না। এলাকার কয়েকজন মহিলা আমাদের জানান, তাদের জোর করে ফর্ম ফিল আপ করানো হয়েছে। প্রায় ৫০-৬০ জনের ক্ষেত্রে এমনটা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমাদের পোস্টার রাতের অন্ধকারে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। বিষয়টি আমরা মৌখিকভাবে থানায় জানিয়েছি।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। বিজেপি সমর্থক সঞ্জয় ঘটক বলেন, আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে আমাদের দলের ইস্তাহার বিলি করছিলাম। তৃণমূলই বিভিন্ন জায়গায় আমাদের বাধা দিচ্ছে এবং মিথ্যা অভিযোগ তুলছে। আমরা যে ‘ফ্রি রেজিস্ট্রেশন কার্ড’ দিচ্ছিলাম, তা শুধুমাত্র প্রচারের অংশ হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার জন্য কতজনের কাছে পৌঁছনো গেল, তার হিসেব রাখতেই করা হচ্ছিল। কোনো বেআইনি কাজ করা হয়নি। উল্টে তৃণমূলই আমাদের পোস্টার লাগাতে দিচ্ছে না এবং ছিঁড়ে ফেলছে। অন্যদিকে, রবিবার বিজেপির পক্ষ থেকে প্রচারে বেরোনোর সময় বোলপুরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিমবাজার এলাকায় এক মহিলা কর্মীকে হুমকি ও অশ্লীল ভাষায় হেনস্তার অভিযোগ ওঠে তৃণমূলের স্থানীয় কাউন্সিলার ও তাঁর কয়েকজন সঙ্গীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ওই মহিলা কর্মী এমনটাই জানা গিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে বোলপুরে বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ বলেন, একজন মহিলা কর্মীকে এভাবে নোংরা ভাষায় হেনস্তা করা কখনওই কাম্য নয়। তৃণমূল ভয় পেয়ে এসব করছে। আমাদের কর্মীদের কোনো ভুল থাকলে থানায় অভিযোগ জানাতে পারত। এভাবে হুমকি বা হামলা করার কোনো মানে হয় না।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় কাউন্সিলার তাপস সরকার। তাঁর দাবি, নির্বাচন বিধি চালু হওয়ার পরেও বিজেপির নেতাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন নথি নিচ্ছে। ভুল প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে তিন হাজার টাকা দেওয়া হবে বলে। আমরা শুধু এই বেআইনি কাজের প্রতিবাদ করেছি। ভোটের প্রচার যে কেউ করতে পারে। এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালেও প্রশাসনের তরফে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশও সতর্ক রয়েছে।