• বর্ধমানে মমতার পদযাত্রায় জনস্রোত
    বর্তমান | ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: মমতার জনপ্রিয়তাকে আটকানোর কোনো ব্যারিকেডই যথেষ্ট নয়! রবিবার আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল বর্ধমান শহরে। তাঁকে একটু ছোঁয়ার চেষ্টায় রাস্তার দু’পাশের বাঁশের ব্যারিকেড কার্যত ভেঙে ফেলার জোগাড়! 

    বর্ধমানের দুপুরের আকাশে চক্কর কাটতে কাটতে সবে মাটি ছুঁয়েছে মমতার হেলিকপ্টার। আর তখনই বাধাভাঙা উচ্ছ্বাস জনতার। সমস্বরে আওয়াজ উঠছে—‘যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা’। স্পন্দন স্টেডিয়াম থেকে হাঁটতে হাঁটতে বেরিয়ে এলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি তখন যেন জার্মানির সেই হ্যামিলন শহরের বাঁশিওয়ালা! নেত্রী হেঁটে চলেছেন। পিছনে ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ। তিনি আসবেন শুনে প্রায় দেড় ঘন্টা আগে থেকেই কড়া রোদের মধ্যে ঠায় দাঁড়িয়েছিলেন সবাই। আসতেই তাঁদের চোখ-মুখ থেকে ক্লান্তির ছাপ উধাও। কে কত কাছে থেকে ‘দিদি’কে দেখতে পারে, তার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। সামলাতে হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। এর মধ্যেই কেউ সুযোগ ফুলের তোড়া বাড়িয়ে দেন। সাদরে তা গ্রহণও করেন মমতা। যুবক-যুবতীদের আবার ঝোঁক দিদির সঙ্গে একটা সেলফি তোলার। কেউ সুযোগ পেলেন। কেউ পেলেন না। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল সুপ্রিমোর পদযাত্রা লাইভও করলেন। কমেন্ট বক্সেও উঠল ঝড়। 

    ভিড়ের মধ্যেও মমতার প্রশংসাসূচক তুফান। অনেকেই তাঁকে কাছ থেকে দেখে বলতে শুরু করলেন, ‘ভাবা যায়, এই বয়সেও কত পরিশ্রম করছেন। প্রখর রোদেও ক্লান্তি নেই।’ সত্যিই তো, মমতা যখন হাঁটেন তখন তাঁর সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে হিমশিম খেয়ে যান নিরাপত্তারক্ষী থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতারা। এদিন বর্ধমান পুরসভার কাছে থেকে পদযাত্রা শুরু হয়ে। শেষ হয় বীরহাটায় গিয়ে। নেত্রীর সঙ্গে ছিলেন বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাস। তিনি বলছেন, ‘এদিনের ভিড় বুঝিয়ে দিয়েছে বর্ধমানের মানুষ তৃণমূলকেই চাইছেন। উন্নয়ন দেখেই তাঁরা ভোট দেবেন।’ 

    বর্ধমানের পদাযাত্রার আগে এদিন মন্তেশ্বর ও কালনায় সভা করেন তৃণমূল নেত্রী। মন্তেশ্বরে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে দেখে ভোট দিন। বিজেপি বাংলার ভালো চায় না। বহিরগতদের রাজনৈতিকভাবে বিদায় দিতে হবে।’ কালনার মিরহাট কেলোর মাঠের সভা থেকেও তিনি পূর্ব বর্ধমানের ১৬টি আসনেই তৃণমূলকে জয়ী করার আহ্বান জানান। তৃণমূল সুপ্রিমোর কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগে থেকেই রাস্তার দু’পাশে ভিড় জমতে থাকে। এখানেও মহিলাদের উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। জনতার উচ্ছ্বাস থেকে তৃণমূল সুপ্রিমো বারবার থমকে যান। বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে জনতাকে আটকানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু উচ্ছ্বাস থামানোর জন্য তা যেন যথেষ্ট ছিল না। এক সময় ব্যারিকেড ভাঙার জোগাড় হয়। সেই সঙ্গে সমানে বেজে চলেছে, ‘যে লড়েছে সবার ডাকে, সেই জেতাবে বাংলা মা’কে।’
  • Link to this news (বর্তমান)