বাহিনীর বাধায় মোদির মঞ্চে নেই ওন্দার প্রার্থী, সভায় এলেনই না শালতোড়ার বিজেপি প্রার্থী
বর্তমান | ২০ এপ্রিল ২০২৬
রঞ্জুগোপাল মুখোপাধ্যায়, ফুলবেড়িয়া: এতদিন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ‘বাড়াবাড়ি’ নিয়ে তৃণমূল অভিযোগ তুলত। এবার জওয়ানদের বাধায় মোদির মঞ্চে উঠতে না পেরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন বিজেপির বিদায়ী বিধায়ক। ওন্দার বিদায়ী পদ্ম বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী অমরনাথ শাখাকে এদিন সিআরপিএফ জওয়ানরা বড়জোড়ার ফুলবেড়িয়ায় প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চের কাছে ঘেঁষতে দিলেন না। ঘটনায় ক্ষুব্ধ অমরনাথ সিআরপিএফের আধিকারিকদের বচসায় জড়িয়ে পড়েন। শেষে অনুনয়-বিনয় করেন। তবে তাতেও চিঁড়ে ভেজেনি। শেষমেশ বিজেপি কর্মীদের পাশে বসেই ‘মোদি দর্শন’ করেন ওন্দার বিজেপি প্রার্থী। শালতোড়ার বিজেপি প্রার্থী চন্দনা বাউরিও এদিন প্রধানমন্ত্রীর সভায় যাননি। তিনি আসানসোলে মোদির সভায় যাওয়ার কারণে এদিনের মঞ্চে ছিলেন না বলে চন্দনাদেবী জানিয়েছেন।
অমরনাথবাবু বলেন, আমি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই এদিন সভাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর সভার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জওয়ানরা আমাকে ঘুরপথে মঞ্চের কাছে যেতে বলেন। তাতে কিছুটা দেরি হয়ে যায়। পরে রক্ষীরা আমাকে মঞ্চে উঠতে দেয়নি। নিজের পরিচয় জানিয়ে সিআরপিএফের আধিকারিকদের অনুরোধ করা হলেও কেউ কর্ণপাত করেননি। বিজেপি-র বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তথা এদিনের সভার অন্যতম উদ্যোক্তা তাপস বসু বলেন, পুলিশের জন্য অমরনাথবাবু বিভ্রান্তির শিকার হন। দেরি হওয়ার কারণে মোদির মঞ্চে তিনি উঠতে পারেননি।
তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক তথা বড়জোড়ার বিদায়ী বিধায়ক অলোক মুখোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মাথায় তোলার ফল হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন বিজেপি নেতারা। বাংলায় তৃণমূলকে জব্দ করতে বিজেপি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে। বাহিনী শুধুমাত্র দিল্লির বিজেপি নেতাদের কথা শুনছে। তারা বাংলার বিজেপি নেতাদের পাত্তা দিচ্ছে না। দিল্লির দাসত্ব করলে ভবিষ্যতে অন্য বিজেপি নেতাদেরও অমরনাথবাবুর মতো হাল হবে। লজ্জা থেকে বাঁচতে ওরা এখন পুলিশের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চে ওঠার অনুমতি দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। আমার শুধুমাত্র সুষ্ঠুভাবে সভা সম্পন্ন করার বিষয়টি খেয়াল রেখেছিলাম।
এদিন বড়জোড়া ব্লকের ফুলবেড়িয়া ময়দানে বেলা ১১টা নাগাদ প্রধামন্ত্রী সভা করেন। সভা মঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ পর মোদি জেলার বিজেপি প্রার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হন। উপস্থিত লোকজনের সঙ্গেও তিনি দলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। অন্যান্য প্রার্থীদের নিয়ে মোদি মঞ্চে দু’হাত তুলে যখন উচ্ছ্বাস দেখাচ্ছেন, তখন অমরনাথবাবু একশো ফুট দূরে মুখ ভার করে বসেছিলেন। সিআরপিএফের আধিকারিকের সঙ্গে তাঁর বাদানুবাদ হচ্ছে দেখে অনেকেই অমরনাথবাবুর কাছে এগিয়ে যান। মঞ্চে থাকা জেলা বিজেপি-র নেতাদের হাত নেড়ে তাঁরা সমস্যার কথা জানানোর চেষ্টা করেন। তবে সেদিকে কোনো নেতা তাকিয়েও দেখেননি! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিজেপি নেতা বলেন, বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার এক হেভিওয়েট জনপ্রতিনিধির সঙ্গে অমরনাথবাবুর দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। ওন্দার বিজেপি বিধায়ক যাতে মোদির মঞ্চে উঠতে না পারেন, তারজন্য তিনি কলকাঠি নেড়েছেন বলে আমাদের অনুমান। অমরনাথ শাখা ডাকাবুকো নেতা। তিনি বিজেপি-র জন্য অনেক খেটেছেন। এভাবে তাঁর অপমান নেমে নেওয়া যায় না। দলের অন্দরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।