প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: দিল্লির কুর্সিতে বসে প্রায় এক যুগ পার করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বারো বছরে ক’বার সাংবাদিক বৈঠক করেছেন, তা নিয়ে সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েছেন বারবার। সেই মোদি বাংলা দখলের স্বপ্নে বিভোর হয়ে প্রোটোকল ভেঙে ঢুকে পড়লেন ঝালমুড়ির দোকানে। খেলেন ১০ টাকার মশলা মুড়ি। সময় কাটালেন বেশ কিছুক্ষণ। প্রধানমন্ত্রীর এই ঝালমুড়ি আদিখেত্যার নেপথ্যে অন্য কৌশল দেখছে তৃণমূল। কী সেই কৌশল? এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে ঝাড়গ্রামের তৃণমূল নেতৃত্ব অভিযোগ তুলেছে, প্রায় একই সময়ে লালগড়ে তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে সভা করতে আসার কথা ছিল ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ও স্ত্রী কল্পনা সোরেনের। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত কর্মসূচির বাইরে গিয়ে ঝালমুড়ি খেতে চাওয়ায় তাঁর বিশেষ বিমান ছাড়তে দেরি হয়। ওদিকে, সস্ত্রীক হেমন্ত আটকে থাকেন ঝাড়খন্ডে। তাঁদের হেলকপ্টারকে উড়ানে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। শেষমেষ তাঁদের লালগড় সহ কেশিয়াড়ি ও দাঁতনের প্রচার কর্মসূচি বাতিল করতে হয়। পুরো ঘটনাটিকে মোদির অসৌজন্য ও আদিবাসী বিরোধী মনোভাব বলে তোপ দেগেছেন তৃণমূল। একই সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের কটাক্ষ, জঙ্গলমহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন থেকে নজর ঘোরাতে ঝালমুড়ির দোকানে ঢুকে নাটক করলেন প্রধানমন্ত্রী।
‘অরণ্যসুন্দরী’ ঝাড়গ্রামের জনসভায় এদিন মোদীর ভাষণ ছিল প্রতিশ্রুতিতে ভরা। বক্তব্যের শুরুতেই তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের সরকার গড়তে চায় বলে তোপ দাগেন। বলেন, এই সরকার অনুপ্রবেশকারীদের ভাষা, ধর্ম রক্ষা করবে। অনুপ্রবেশকারী শত্রু হয়ে উঠবে আপানদের।’ এরপরই তিনি একের পর এক শুনিয়ে যান আশ্বাসের ফিরিস্তি। যার মধ্যে অধিকাংশই কেন্দ্রের চালু প্রকল্প। মুক্ত বিজলি যোজনা, পিএম কিষান সম্মাননিধি, সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য হাজার টাকা, মহিলাদের চিকিৎসার জন্য ‘মুক্ত ইলাজ’ সহ প্রভৃতি প্রকল্প উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।
ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে সভা শেষ করে বিদ্যাসাগর পল্লীর হেলিপ্যাডে আসার পথে আচমকা কলেজ মোড়ের কাছে কনভয় থেমে যায় মোদির। গাড়ি থেকে নেমে সোজা ঢুকে পড়েন একটি ঝালমুড়ির দোকানে। বানাতে বলেন মশলা মুড়ি। প্রধানমন্ত্রী দোকানদারের হাতে ১০ টাকা ধরিয়ে কাগজের ঠোঙায় মুড়ি খেতে শুরু করেন। সেই ছবি সমাজ মাধ্যমে মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রীকে মুড়ি খাইয়ে বেজায় খুশি বিক্রমকুমার সাউ। তিনি বলেন, দোকানের ভিতর বসে ছিলাম। হঠাৎ দেখি প্রধানমন্ত্রী আমার সামনে দাঁড়িয়ে। আমার তো পিলে চমকানো অবস্থা। বাবা ও মায়ের নাম জানতে চাইলেন। ভালো করে মশলা মুড়ি বানাতে বললেন। খেয়ে বললেন, বহুৎ বড়িয়া হ্যায়।’ তৃণমূলের সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, প্রধানমন্ত্রীকেও দেখলাম আমাদের নেত্রীকে নকল করতে।