দিল্লি হিলিয়ে দিতে পারি, তাই আমি বিজেপির টার্গেট: মমতা
বর্তমান | ২০ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিজেপির টার্গেট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বাংলা—তৃণমূলের সরাসরি অভিযোগ। কিন্তু বিজেপির এই লক্ষ্য কেন? সেটাই নিজের ঘরের মাটি থেকে ফাঁস করে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বললেন, আমি দিল্লি হিলিয়ে দিতে পারি। তাই আমাকে টার্গেট করেছে বিজেপি।
এই মুহূর্তে, নিঃসন্দেহে গোটা দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিজেপি-বিরোধী আন্দোলনের প্রধান মুখ। তিনি বারবার বিজেপিকে পরাস্ত করছেন। অন্য দল যখন বিজেপির কাছে ক্রমাগত পরাজিত হচ্ছে, তখন একের পর এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। আবার যখন অভিযোগ উঠছে বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে, তখন এই মমতা নিজেই হাজির দেশের শীর্ষ আদালতে। জনগণের কণ্ঠস্বর আজ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে মমতার লড়াইয়ে। আর এই সোজা কথাটাই গেরুয়া শিবিরের আঁতে ঘা দিয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাই যখন গণতান্ত্রিকভাবে পেরে উঠছে না তখন সমস্ত কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে মমতার দলকে ব্যতিব্যস্ত ও হেনস্তা করছে।
ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই রবিবার ভবানীপুরের উত্তম উদ্যানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে এক ঘরোয়া বৈঠকে মমতা জানালেন, কেন টার্গেট তিনি। মমতার কথায়, বিজেপি আমাকে ভয় পাচ্ছে। আমি দিল্লি হিলিয়ে দিতে পারি। তাই আমাকে টার্গেট করেছে। কিন্তু ওরা যত শক্তি নিয়েই মাঠে নামুক না কেন, আমি ভয় পাই না, মাথা নত করি না। দিল্লি হিলিয়ে দেবই। বিধানসভা নির্বাচনটা শেষ হতে দিন, তারপর দেখুন কী করি!
মমতার বক্তব্য থেকে এটা বোঝা গেল, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল জেতার পরই দিল্লির অভিমুখে পাড়ি দেবেন বিজেপি-বিরোধী আন্দোলনের প্রধান মুখ। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেশের সামনে উন্মোচন করবেন মমতা। মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
রবিবার ভবানীপুরের ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তম উদ্যানে মমতা মিলিত হন সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষদের সঙ্গে। আলাপচারিতা করেন। সেখানে বিভিন্ন ধর্ম-সম্প্রদায়ের মানুষের কথা মমতা কথা শুনলেন এবং নিজের বক্তব্যও জানালেন। অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্যলগ্নে এক সুন্দর অনুষ্ঠানে রূপান্তরিত হল। এই কর্মসূচিতেই মমতা বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে। টার্গেট করেছে সংখ্যালঘুদের। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাগাভাগি করছে বিজেপি। একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছে ওরা। বিজেপির ১৯টি রাজ্যের সমস্ত নেতাকে বাংলায় পাঠিয়ে দিয়েছে। এছাড়া সব এজেন্সিকেও ব্যবহার করেছে বিজেপি। মোদির সভা হচ্ছে শহরাঞ্চলে, আর লোক আনা হচ্ছে ট্রেনে, বাসে করে অন্য জায়গা থেকে।
মমতার সংযোজন, বিজেপি দেশকে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে। কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কোথায় দাঁড়িয়েছে, তা দেখছে না। পেট্রল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম বেড়েছে। সেদিকে ওদের নজর নেই।
বিজেপি রীতিমতো তুঘলকি শাসন চালাচ্ছে। করছে জবরদস্তি। নারী-বিরোধী মনোভাব পোষণ করছে। এই মন্তব্যেও তীব্র আক্রমণ শানান মমতা। সমস্ত মানুষের উদ্দেশে জনপ্রিয় জননেত্রী বলেন, আমি দেশকে ভালোবাসি। দেশের শান্তি, সম্প্রীতি, ঐক্য বজায় রাখবই। তাঁর আবেদন, কিন্তু কেউ বিজেপির ভেদাভেদের রাজনীতিতে পা দেবেন না। আসুন, আমরা সকলে মিলে দেশকে সুরক্ষিত রাখি।