সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: রবিবার তারকেশ্বর থানার অন্তর্গত রামনগরে নির্বাচনি জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হরিপাল, তারকেশ্বর ও সিঙ্গুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের তিন প্রার্থীর সমর্থনে এই সভায় মুখ্যমন্ত্রী আসার কথা ছিল সকাল ১১টায়। পরে সেই সময় পরিবর্তিত হয়ে ১২টা হয়। এদিকে প্রচণ্ড গরমে উপেক্ষা করে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য উৎসাহী কর্মী, সমর্থকরা তাড়াতাড়ি সভায় চলে আসেন। সভামঞ্চের চারিদিক ঘেরা, মাথার উপর ছাউনি। গরমে, ঘামে বারে বারেই অস্থির হয়ে পড়েছেন তাঁরা। তবুও তাঁদের ধৈর্যের কোনো অভাব দেখা যায়নি, দলনেত্রীকে দেখার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি কেউ। শেষে দুপুর দেড়টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চে আসেন। ততক্ষণ ঠায় অপেক্ষা করে গিয়েছেন তাঁরা।
অনেকে আবার সভার পরিবর্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন হেলিপ্যাডের কাছে। মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার নামার আগেই ছাতা মাথায় দিয়ে বা টুপি পরে জায়গা নিয়ে নেন তাঁরা। মঞ্চ থেকে বারবার ছাতা ও টুপি খুলে নেওয়ার আবেদন জানানো হলেও সেভাবে পাত্তা দেননি কেউ। সেই হিসাবে এখানে উৎসাহী জনতাকে সামাল দিতে বেশ বেগ পেতে হয় প্রশাসনকে। এদিন শৈবতীর্থ তারকেশ্বরে এসে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভোলেবাবা পার করেগা, বিজেপিকো দূর করেগা’। তারকেশ্বরের ভক্ত মানুষ এই কথায় উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন। মঞ্চে দেখা গেল এক বহুরূপী ত্রিশূল হাতে মহাদেব সেজে এসেছেন। এছাড়া বেশ কিছু মহিলা গঙ্গাজল সহ বাঁক নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। সভা শেষ মুখ্যমন্ত্রী মহাদেবকে পাশে রেখে, কাঁধে গঙ্গাজলের বাঁক নিয়ে নৃত্য পরিবেশন করেন। সঙ্গে ছিলেন আদিবাসী নৃত্যশিল্পীরা। মুখ্যমন্ত্রীকে এইভাবে দেখেও উচ্ছাসে ফেটে পড়েন কর্মী, সমর্থকরা।