বিবাদ ভুলে রামেন্দু ও উত্তমকে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা মমতার
বর্তমান | ২০ এপ্রিল ২০২৬
অমিত চৌধুরী, তারকেশ্বর: রবিবার তারকেশ্বরের রামনগরের জনসভা থেকে দলীয় কর্মীদের একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চেই তিনি তৃণমূল প্রার্থী রামেন্দু সিংহ রায়ের সঙ্গে পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম কুণ্ডুর করমর্দন করিয়ে দেন। অতীতেও তিনি তারকেশ্বরের তৃণমূল নেতা ও কর্মীদের মনোমালিন্য ভুলে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তারই প্রতিফলন এদিন দেখা গেল রামনগরের জনসভায়। এদিন বেলা দুপুর দেড়টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী সভামঞ্চে আসেন। তারপরই মঞ্চে রামেন্দু সিংহ রায় ও উত্তম কুণ্ডুকে ডেকে নেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই ভূমিকার প্রশংসা করে করতালি দিয়ে দলীয় কর্মীরা তাঁদের উচ্ছ্বাসের কথা জানিয়ে দেন।
প্রসঙ্গত, তারকেশ্বরে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও পুরসভার প্রাক্তন স্বপন সামন্তের সঙ্গেও বর্তমান চেয়ারম্যান উত্তম কুণ্ডুর মনোমালিন্যের কথা প্রায়ই সংবাদ শিরোনাম উঠে আসত। বিধায়ক রামেন্দুর সঙ্গে উত্তমের দ্বন্দ্বও দীর্ঘদিনের। দল এবার রামেন্দুকে ফের টিকিট দেওয়ায় উত্তমের অনুগামীদের বিরুদ্ধে প্রচারে নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। এই কথা কানে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এদিন সভা শেষে রামেন্দু ও উত্তমকে আলাদা করে ডেকে মমতা ফের জানিয়ে দেন, তোমরা একসঙ্গে কাজ করবে। এই কথার যেন নড়চড় না হয়। ভোটের সময় সব দ্বন্দ্ব ভুলে কাজ করতে হবে। উত্তম কুণ্ডু বলেন, ১৯৯৮ সাল থেকে দল করি। আমি তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী। আমাদের মধ্যে কোনো বিবাদ নেই। দিদি আমাকে যথেষ্ট স্নেহ করেন। তিনি একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন, সেইমতোই কাজ হবে।
অন্যদিকে রামেন্দু সিংহ রায় বলেন, দলের প্রচারে কয়েকদিন ধরেই পুর চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন না। ব্যক্তিগত কাজে তিনি কলকাতায় ছিলেন। কোনোভাবে দিদি তা জানতে পারেন। তিনি হয়তো ভেবেছেন আমাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়েছে। এসব কিছু নয়। আমরা একসঙ্গেই কাজ করছি।