• পরিষেবার মানোন্নয়নই এক্স ফ্যাক্টর, ভোট অঙ্কে তৃণমূলের ধারেকাছে নেই বিরোধীরা
    বর্তমান | ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • স্বার্ণিক দাস, কলকাতা; ২০১১ সাল। রাজ্যে পালাবদলের বছর। তারাতলা মোড় থেকে জিনজিরা বাজার হয়ে বাটানগর মোড় পৌঁছানো তখন একটা যুদ্ধের থেকে কম কিছু নয়। ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে নাচতে নাচতে চলত বাইক, গাড়ি। ওই যন্ত্রণাময় পথ প্রতিদিন পাড়ি দিতে হত অফিস যাত্রীদের। ভুক্তভোগী স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারাও। ১২ কিমি রাস্তা যেতে সময় লাগত দেড় তেকে দু’ঘণ্টা।

    ২০১৯ সালের ১১ জানুয়ারি। নিত্যকষ্ট থেকে মুক্তি। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন বজবজ ট্রাঙ্ক রোড সংলগ্ন মহেশতলা বিধানসভার একটা বড়ো অংশের মানুষ। সৌজন্যে ‘সম্প্রীতি’ ফ্লাইওভার। প্রায় আট কিমি দীর্ঘ এই ফ্লাইওভার ভোল বদলে দিয়েছে বাটা মোড়ের। জিনজিরা বাজারের গা ঘেঁষেই উঠেছে এই ফ্লাইওভার। এখন জিনজিরা মোড় থেকে ফ্লাইওভার পার করে বাটা মোড় পৌঁছাতে সময় লাগে সাকুল্যে ১২ মিনিটে। তবে তা গাড়ি বা বাইকে। বাসের চলাচল এই ফ্লাইওভারে নিষিদ্ধ। 

    ‘সম্প্রীতি’ ফ্লাইওভার মহেশতলার হাল বদলে দেওয়ার অন্যতম ফ্যাক্টর। আর শাসকদলের কাছে এটাই ‘এক্স’ ফ্যাক্টর। পাশাপাশি, তৃণমূলের হাতিয়ার এলাকার সার্বিক উন্নয়ন। যদিও বিরোধীদের দাবি, গত ১৫ বছর ধরে সরকার চালালেও মহেশতলার নিকাশির সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ তৃণমূল। তবে, গত তিনটি নির্বাচনের অঙ্ক বলছে, যোজনখানেক দূরে সিপিএম। আর ঘন মেঘের মধ্যে আবছা গেরুয়া শিবির।

    বেহালার পর্ণশ্রী পার করে রবীন্দ্রনগর পৌঁছালেই মহেশতলা পুরসভা এলাকা শুরু। রবীন্দ্রনগর, কাঠপোল, জিনজিরা বাজার সংলগ্ন এলাকার রাস্তাঘাটের অবস্থা বাম আমলে ছিল খানাখন্দে ভরা। তৃণমূল সরকার আসার পর সেসব মেরামতি হয়। বজবজের মতোই হুগলি নদীর তীরে মহেশতলার জনপদ তৈরি হয় ব্রিটিশ আমলে। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এলাকায় ভারী যান চলাচল লেগেই থাকে। তাই এই অঞ্চলে রাস্তা বারবার ভেঙে যায়। বিশেষত, বর্ষাকালে প্রায় দেড়-দু’ ফুটের গর্ত তৈরি হয় বজবজ ট্রাঙ্ক রোডে। সেই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে ব্রেসব্রিজ স্টেশন সংলগ্ন রাস্তা থেকে কংক্রিটের ব্লক বসিয়ে ভাঙন রোখার চেষ্টা করেছে সরকার। মহেশতলা পুরসভার অধিকাংশ ওয়ার্ডই এই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। আকড়ার বাসিন্দা তনুশ্রী তরফদার বলেন, ‘এলাকায় উন্নয়ন হলেও নিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে চিন্তা রয়েছে। বর্ষা এলেই জল জমার সমস্যা লেগেই আছে।’ 

    ২০১৮ সালের উপ নির্বাচনে জিতে মহেশতলার বিধায়ক হন দুলালচন্দ্র দাস। একুশের নির্বাচনে রেকর্ড ভোটে জয়লাভ করেন তিনি। এবার তাঁরই ছেলে শুভাশিস দাস শাসকদলের টিকিটে নির্বাচনে লড়ছেন। শুভাশিসের শপথ, ‘মানুষের আশীর্বাদে এবার বিধায়ক হলে সর্বপ্রথম কাজ হল ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশন।’ তবে শুধু রাস্তা নয়। প্রার্থীর দাবি, মহেশতলায় জেতার জন্য উন্নয়নমূলক বেশ কিছু ‘এক্স ফ্যাক্টর’ রয়েছে তৃণমূলের। পথশ্রী প্রকল্পে এই বিধানসভা এলাকায় অসংখ্য নতুন রাস্তা তৈরি হয়েছে। বজবজ ট্রাঙ্ক রোড আগে অন্ধকারে ডুবে থাকত। ফলে সন্ধ্যা নামলেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। তাই বিবিটি রোডের দৃশ্যমানতা বাড়াতে এলইডি আলো বসানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। একইসঙ্গে, বাটানগর মোড় থেকে ফেরিঘাট পর্যন্ত বহু রাস্তা সম্পূর্ণভাবে মেরামত করা হয়েছে। 

    সিপিএম এবার এই কেন্দ্রে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারে থাকা আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে টিকিট দিয়েছে। তাঁর দাবি, ‘গত ১৫ বছর ধরে মানুষ তৃণমূলকে বিশ্বাস করেছে। এবার আর নয়। মহেশতলা এবার মিথ্যাচারের জবাব দেবে।’ সায়ন দাবি করলেও ভোটের অঙ্ক বলছে, ২০১৬ সালে মহেশতলায় বামেদের ভোট ছিল ৪২.৪৮ শতাংশ। একুশে তা নেমে আসে সাড়ে ১১ শতাংশে। আসলে তাদের প্রায় ২০ শতাংশ ভোট স্থানান্তরিত হয় রামে। বাকিটা তৃণমূলে। বিজেপি সেই সুযোগে বেড়ে ৩০ শতাংশে পৌঁছেছিল। আর তৃণমূল প্রায় ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। জয়ের ব্যবধান ছিল প্রায় ৫৮ হাজার। বাবার এই রেকর্ডকে ভেঙে জয়ের মার্জিন আরও বাড়াতে চান শুভাশিস। 
  • Link to this news (বর্তমান)