নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবছর বাজেটেই ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধি ঘোষণা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। কিন্তু সেই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি নবান্ন। এনিয়ে নানা জল্পনাও শুরু হয়েছে কর্মীদের মধ্যে। কিন্তু নবান্নের তরফে এই বিজ্ঞপ্তি কেন জারি করা হয়নি? সূত্রের খবর, কর্মচারীদের বর্ধিত হারে ডিএ প্রদান চালু করতে রাজ্যের তরফে অনুমতি চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিককে (সিইও)। অর্থাৎ, বাজেটে ঘোষণা হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও ভোটের মাঝে ডিএ বাড়াতে কমিশনের ছাড়পত্র চাওয়া হয়েছে নবান্নের তরফে। কমিশনের সেই ছাড়পত্র এখনো না-মেলায়, বিজ্ঞপ্তি জারিসহ ১ এপ্রিল থেকে নয়া হারে ডিএ কার্যকরের বিষয়টি ঝুলে রয়েছে। বাজেটে ঘোষিত বিষয়ে নতুন করে কমিশনের অনুমতি চাওয়াকে ‘অতিসক্রিয় সিদ্ধান্ত’ বলে মনে করছেন কর্মচারী আধিকারিকদের একটা বড়ো অংশ। আবার, ছাড়পত্র না-দেওয়ায় তাঁরা কমিশনের বিরুদ্ধে গড়িমসিরও অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন। সিইও দপ্তরের একটি সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাজ্যের মুখ্যসচিবের লেখা ওই চিঠি দিল্লি পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনি বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পরে মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে থানার ওসি পর্যন্ত বদল করেছে কমিশন। এনিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, তাঁর হাত থেকে কার্যত সমস্ত অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে! এই প্রেক্ষাপটে মনে করা হচ্ছে, বাজেটে পাশ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও, মুখ্যমন্ত্রীকে অন্ধকারে রেখেই ডিএ বিজ্ঞপ্তি জারির জন্য কমিশনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই ৫ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী বাজেটে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ৪ শতাংশ হারে ডিএ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেন। ওই সিদ্ধান্ত ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়ে মে মাসের বেতনের সঙ্গে পাওয়ার কথা। ফলে এপ্রিলের আগেই এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হবে বলে আশাবাদী ছিলেন সকলে। কিন্তু তা না-হওয়াতেই গুঞ্জন শুরু হয় নবান্নের অলিন্দে। সকলেরই প্রশ্ন, এর আগেও বাজেটে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছিল রাজ্যের তরফে। প্রতিবারই যথাসময়ে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে এবং সেই ডিএ পাওয়া গিয়েছে। তাহলে এবছর এখনো বিজ্ঞপ্তি জারি হল না কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে একাধিক যুক্তির কথা উঠে আসছে কর্মীদের আলোচনায়। বাজেটে ঘোষিত বর্ধিত ৪ শতাংশ ডিএ শীঘ্রই দেওয়া হবে, একাধিক জনসভা থেকে বলতে শোনা গিয়েছে মমতাকে। শনিবার এবং রবিবারের সভা থেকেও তিনি এই বিষয়ে বলেছেন। তাহলে কি এক্ষেত্রেও বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে ডিএ বিজ্ঞপ্তি জারির অনুমোদন দিতে দেরি করছে কমিশন? প্রশ্ন সরকারি কর্মচারী মহলের একাংশের।