• নির্বাচনে বিশৃঙ্খলতা এড়াতে ২ লক্ষকে আগাম সতর্কতামূলক আটক পুলিশের
    বর্তমান | ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচনে কোনো অশান্তি বা অভিযোগ পেলে দ্রুত পদক্ষেপ করতে দু’হাজারেরও বেশি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ (কিউআরটি) মোতায়েন করছে নির্বাচন কমিশন। জানা গিয়েছে, প্রথম দফার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য মোট ২,১৯৩টি কিউআরটি কাজ করবে। সবচেয়ে বেশি কিউআরটি থাকবে মুর্শিদাবাদ জেলায়। তারপরেই রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। এছাড়াও এখনও পর্যন্ত বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে দু’লক্ষেরও বেশি মানুষকে আটক করেছে রাজ্য পুলিশ।

    কমিশন জানিয়েছে, প্রতি কিউআরটিতে অন্তত একজন করে রাজ্য পুলিশের এসআই বা এএসআই পদমর্যাদার পুলিশকর্মী থাকবেন। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন কমপক্ষে চার থেকে ছ’জন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। কিউআরটির গাড়িতে অবশ্যই ক্যামেরা থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন। এছাড়াও টিমের নেতৃত্বের কাছে সংশ্লিষ্ট বুথের নকশা থাকবে। কোথাও বুথ দখল বা কোনো অশান্তির অভিযোগ পেলে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে যাবে ওই টিম। নিয়মিত সেক্টর অফিস এবং কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে তারা।

    কমিশন জানিয়েছে, ২৩ এপ্রিল মুর্শিদাবাদ জেলায় মোট ২৮৮টি কিউআরটি থাকবে। এই জেলাকে দু’ভাগে ভাগ করে এই দল নিয়োগ করা হবে। পূর্ব মেদিনীপুরে ২৫৩টি, পশ্চিম মেদিনীপুরে ২৪৮টি, বাঁকুড়ায় ১৮০টি, বীরভূমে ১৬১টি, মালদহে ১৫৭টি, পুরুলিয়ায় ১৩৯টি, কোচবিহারে ১৩৩টি, আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটে ১১৩টি কিউআরটি থাকবে। বাকি জেলাগুলিতে কিউআরটির সংখ্যা ১০০-র নীচে। কমিশন জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গের জন্য জলপাইগুড়িতে ৮৩টি, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৭৫টি, আলিপুরদুয়ারে ৭০টি, ঝাড়গ্রামে ৬৬টি, দার্জিলিঙে ৫২টি, শিলিগুড়িতে ৩৯টি এবং কালিম্পঙে ১৭টি কিউআরটি থাকবে। উত্তর দিনাজপুর জেলাকেও মুর্শিদাবাদের মতো দুই পুলিশ জেলায় ভাগ করে কিউআরটি মোতায়েনের কথা জানিয়েছে কমিশন। ভোটের দিনে ইসলামপুরে ৫৪টি ও রায়গঞ্জ পুলিশ জেলা ৭৫টি ‘কুইক রেসপন্স টিম’ থাকবে। ৮-১০টি ভোটকেন্দ্র নিয়ে একটি সেক্টর অফিস তৈরি হয়। সেই অনুযায়ী সেক্টর অফিস নির্বাচন করা হয়েছে। 

    আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে ইতিমধ্যেই ২ লক্ষ মানুষকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। বিচারকের সামনে তাঁরা জানিয়েছেন, ভোটের দিন তাঁরা কোনো ধরনের অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা করবেন না। এখন শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করাই নির্বাচন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। নির্বাচন কমিশনের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, প্রচার শেষ হওয়ার পরের ৪৮ ঘণ্টায় আরও অনেক সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করা হতে পারে, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ এবং শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হয় কমিশন। 

    অন্যদিকে, ভোটের মুখে ফের হলদিয়া এবং কাঁথির এসডিপিওকে রবিবার সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাঁথিতে অতনু ঘোষালকে এসডিপিও করে পাঠানো হচ্ছে। তিনি রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে যুক্ত। হলদিয়ায় এসডিপিও করে পাঠানো হচ্ছে অলোক কুমারকে। তিনি ২০২৩ ব্যাচের আইপিএস।
  • Link to this news (বর্তমান)